এলাকার জনগণই বিদেশ থেকে ফেরা ব্যক্তিগণের খবর দিচ্ছে মেদিনীপুরে

23rd March 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
এলাকার জনগণই বিদেশ থেকে ফেরা ব্যক্তিগণের খবর দিচ্ছে মেদিনীপুরে


TARIF TV: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার স্বাস্থ্য ভবনের কন্ট্রোল রুমের ফোন বেজেই চলেছে। এখানে ফোন করে বিদেশ ও ভিন্ রাজ্য থেকে ফিরে আসা লোকজনদের খোঁজখবর দিচ্ছেন অনেকে। সূত্রের খবর, মেদিনীপুর শহরের বিধাননগরে দুবাই ফেরত দু’জন, হাতারমাঠে আমেরিকা ফেরত একজন, চিড়িমারসাইতে অস্ট্রেলিয়া ফেরত একজন রয়েছেন বলে রবিবার জেলার স্বাস্থ্য ভবনে খবর আসে। খবর দেন ওই এলাকার লোকজনেরাই। শুধু বিদেশ নয়, ভিন্ রাজ্য থেকে ফেরাদেরও খবর দিচ্ছেন অনেকে। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাচ্ছে স্বাস্থ্য দফতরের দল। ভিন্ রাজ্যে কাজে যাওয়া লোকজনেরাও এই সময়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। কেউ জ্বর, সর্দি, কাশির উপসর্গ নিয়ে ফিরলে দ্রুত তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলার স্বাস্থ্য ভবনের তরফে। রবিবার মেদিনীপুর স্টেশনে ভিন্ রাজ্য থেকে ফেরা যাত্রীদের থার্মাল স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এঁদের সকলকে গৃহ পর্যবেক্ষণে থাকতে বলা হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় স্থানীয়দের ক্ষোভ, বিদেশ থেকে ফিরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করিয়েই বাড়িতে চলে আসছেন অনেকে। এঁদের কেউ কেউ রাস্তাতেও ঘুরছেন। বিদেশ ফেরত, ভিন্ রাজ্য ফেরতেরা প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করায় রবিবার শহরের একাধিক এলাকায় উত্তেজনাও ছড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশও যায়। 

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা মানছেন, ‘‘স্থানীয়দের থেকে এখন অনেক খবর আসছে। লোকজন সচেতন হচ্ছেন। বিদেশ ও ভিন্ রাজ্য থেকে যাঁরা ফিরেছেন, তাঁদের অন্তত দু’সপ্তাহ হোম আইসোলেশনে থাকতে বলা হচ্ছে। তাঁদের উপরে নজরও রাখা হচ্ছে।’’ 

জেলার স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, রবিবার পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুরে ১১৬ জনের উপরে নজরদারি চলেছে। এরমধ্যে ২২ জন ২৮ দিন ‘হোম আইসোলেশনে’ ছিলেন। তাঁরা আপাতত বিপন্মুক্ত। বাকি ৯৪ জন এখনও আইসোলেশনে রয়েছেন। এরমধ্যে সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশনে রয়েছেন à§§à§§ জন। আর হোম আইসোলেশনে রয়েছেন ৮৩ জন। রবিবার পর্যন্ত জেলার বাসিন্দা, বিদেশ ফেরত ৯ জনের খোঁজ মেলেনি। এঁদের খোঁজ চলছে।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। à§©à§® বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck