TARIF TV: মহারাষ্ট্র থেকে বুধবার যোগাযোগ করেছিলেন এ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ থেকে সেখানে কাজ করতে যাওয়া ৮৭ জন শ্রমিক। লকডাউনের মাঝে তাঁরা খাদ্যসঙ্কটের মধ্যে পড়েছেন এবং তাঁরা রাজ্যে ফিরতে চান— সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো ছেড়ে তাঁরা এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই ভিডিয়ো বার্তা মুখ্যমন্ত্রী খেয়াল করেন। দলের সাংসদ তথা সর্বভারতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ কয়েক জনকে তিনি দায়িত্ব দেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই শ্রমিকদের সুরাহার বিষয়ে অনুরোধ করতে। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা পেয়েই দ্রুত সক্রিয় হয় উদ্ধব ঠাকরের অফিস। সক্রিয় হন খোদ উদ্ধবের ছেলে তথা মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী আদিত্য ঠাকরেও। মুর্শিদাবাদের যে শ্রমিকরা ভিডিয়ো বার্তার মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহায়তা চেয়েছিলেন, মুম্বইয়ের প্রশাসন দ্রুত তাঁদের খুঁজে নেয় বান্দ্রা পূর্ব এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যেই তাঁদের খাবার এবং আশ্রয়ের বন্দোবস্ত সুনিশ্চিত করা হয়েছে বলে রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
একই ভাবে অন্যান্য রাজ্যে আটকে থাকা বাঙালিদের পাশে দাঁড়াতেও তৎপর হয়েছে নবান্ন। ১৮ জন মুখ্যমন্ত্রীকে মমতা যে চিঠি পাঠিয়েছেন, তাতে তিনি লিখেছেন— ‘‘আমি আপনাকে অনুরোধ করছি, আপনার প্রশাসনকে বলুন, এই সঙ্কটের সময়ে সেখানে আটকে পড়া (পশ্চিমবঙ্গের) শ্রমিকদের আশ্রয়, খাবার এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত সহায়তা দিতে। একই ভাবে বাংলায় যাঁরা আটকে পড়েছেন, আমরা তাঁদের যত্ন নিচ্ছি।’’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগ এবং মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই ৮৭ জন বাঙালি শ্রমিকের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত দ্রুত হওয়ার কথা তুলে ধরে রাজ্য সরকারের প্রশংসা করেছেন সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। রাজ্যসভার তৃণমূল দলনেতার কথায়, ‘‘করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা অনেকেই করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে প্রচেষ্টায় অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর ভূমিকা নির্ণায়ক এবং সহানুভূতিশীল।’’