TARIF TV নিউজ বাংলাঃ শুক্রবার সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে খোলা হয় একটি সিন্দুক এবং একটি দেওয়াল-সিন্দুক। সিন্দুকটি ছিল গুদামঘরে। লন্ডনের চাব’স কোম্পানির তৈরি সিন্দুকটি খুলতে বেশ খানিকটা বেগ পেতে হয়। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় সিন্দুক খোলা গিয়েছে। সেই সিন্দুকে পাওয়া গিয়েছে বিভিন্ন নথি এবং রুপোর পদক।
সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮২৪ সালে। বিদ্যাসাগরের জন্ম তার চার বছর আগে। কালক্রমে সেই কলেজের পড়ুয়া ও প্রধান পুরুষ হয়ে ওঠেন বিদ্যাসাগর। তাঁর অনন্য কীর্তির মধ্যে আছে বিধবা বিবাহ প্রবর্তন এবং নারী শিক্ষা। এ দিন সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে যে-সিন্দুক খোলা হল, তাতে বিধবাদের সাহায্য করার জন্য তৈরি ‘মুক্তকেশী দেবী তহবিল’-এর নথি পাওয়া গিয়েছে। নথিটি ১৯৫৬ সালের। মনে করা হচ্ছে, তহবিলটি দীর্ঘদিন ধরেই চালু ছিল।
এই নথি বিধবা বিবাহ প্রচলনে বিদ্যাসাগরের লড়াইকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, মুক্তকেশী দেবী বিধবা তহবিল স্বয়ং বিদ্যাসাগর চালু করেছিলেন কি না, সেটা গবেষণার বিষয়। তবে এ দিন যে-নথি পাওয়া গিয়েছে, তা থেকে মনে হচ্ছে, স্বামীহারা মহিলারা ওই তহবিল থেকে মাসিক দু’টাকা সাহায্য পেতেন। দেখা যাচ্ছে, মোট আট জন টাকা পেয়ে প্রাপ্তি স্বীকার করেছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন সই করেছেন, ছ’জন দিয়েছেন টিপছাপ। ‘‘এমনই ইতিহাস লুকিয়ে ছিল ওই সিন্দুকে। শুধুই লেখাপড়া নয়, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যে কত বড় সমাজ সংস্কারের কাজ হত, তা বোঝা যাচ্ছে,’’ বলেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য।