মেদিনীপুর মেডিক্যালেই হচ্ছে ১৪ জন সন্দেহ ভাজন করোনা আক্রান্তের পরীক্ষা

28th March 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
মেদিনীপুর মেডিক্যালেই হচ্ছে ১৪ জন  সন্দেহ ভাজন করোনা আক্রান্তের পরীক্ষা


সুভাষ জানা [ মেদিনীপুর ]; করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সন্দেহে পশ্চিম মেদিনীপুরে নতুন করে আরও ১৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে প্রশাসনের এক সূত্রে খবর। ওই সূত্র জানাচ্ছে, ওই ১৪ জনের কিছু উপসর্গ ছিল। সব দিক খতিয়ে দেখেই বৃহস্পতিবার ৫জন ও শুক্রবার ৯জনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে মেদিনীপুর মেডিক্যালেই। এ নিয়ে জেলায় করোনা পরীক্ষার জন্য ১৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। 

রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে প্রথম মেদিনীপুর মেডিক্যালেই করোনা পরীক্ষার অনুমোদন দিয়েছে ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ’ (আইসিএমআর)। কিটও এসেছিল। তবু এখানে করোনা পরীক্ষা চালু নিয়ে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছিল। শেষে বৃহস্পতিবার থেকে এখানে করোনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত বিদেশ এবং ভিন্ রাজ্য থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরে ফিরেছেন ২০,৪৮৩ জন। বিদেশ থেকে ১৭৫ জন, ভিন্ রাজ্য থেকে ২০,৩০৬ জন। এর মধ্যে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে মাত্র ১৮ জনের। 

কেন সন্দেহভাজনদের মধ্যে এত কমজনের করোনা পরীক্ষা হচ্ছে? জেলার স্বাস্থ্য ভবনের এক সূত্র জানাচ্ছে, সম্প্রতি করোনা-পরীক্ষার (কোভিড-১৯) নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছু নিয়মবিধি বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সব সন্দেহভাজনদের নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন নেই। কয়েকটি ক্ষেত্রে যেমন যে সব ব্যক্তি ১৪ দিনের মধ্যে বিদেশ ভ্রমণ করেছেন, সর্দি, কাশি, জ্বর এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ রয়েছে, বা করোনা-পজিটিভ রোগীর সরাসরি সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি, যাঁদের ওই সমস্ত উপসর্গ দেখা দিয়েছে, কিংবা উপসর্গ রয়েছে এমন নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের নমুনা সংগ্রহ করা যেতে পারে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরাও জানাচ্ছেন, ‘‘নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছু নিয়মবিধি রয়েছে। যাঁদের সংক্রমণের লক্ষণ থাকছে, তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।’’





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। ৩৮ বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck