বাংলাদেশঃ চেনা পথঘাটগুলোও অচেনা হয়ে গিয়েছে ঢাকা শহরের। সন্ধ্যা ৭টার শাহবাগ মানে দম আটকে থাকা জ্যাম। মিরপুর রোড বা ওয়ারি– কোথাও নেই গাড়ির হর্ন, রিকসার টুংটাং– একটু বেপরোয়া বাইকারের চিৎকার। সব শুনশান, যেন কোন এক যাদুর কাঠির ছোঁয়ায় সবাই গভীর ঘুমে। শুধু মাঝে মাঝে আইনশৃংখলা কর্মী আর সংবাদমাধ্যমের গাড়ি, আছে জরুরি সেবাদানকারীদেরও উপস্থিতি। এর মাঝেই পুলিশের গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন। পথে থাকা হাতে গোনা মানুষেরও চমকে ওঠা। না। এই দৃশ্য শুধু ঢাকারই না। বিশ্বের আরও অনেক শহরের মতোই করোনাভাইরাস আতঙ্কে এই চেহারাই পেয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী।
শুধু রাজধানীই নয়– বিভাগীয় শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত এই যুদ্ধাবস্থা। এর মাঝেই চলছে মাইকে সতর্কতা মেনে চলার প্রচার। জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল আর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশ বিলি। বিভিন্ন বাজার বা ওষুধের দোকানে সামাজিক দূরত্বের লক্ষণরেখা টেনে বৃত্ত এঁকে দেওয়া। আছে কিছু মানুষের ব্যাক্তি চেষ্টায় শহর বা গ্রামের প্রান্তিক মানুষদের জন্য খাবার আর হাতধোয়া সাবান পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা। এমনই চেহারা গত কয়েক দিনের বাংলাদেশের। চিনের উহানে যে মূর্তিমান আতঙ্কের সঙ্গে মানুষের প্রথম দেখা, আজ গ্রহ জুড়ে সেই আতঙ্ক করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধে অঘোষিত লকডাউনে ঘরবন্দি নাগরিক। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া তাঁরাও আসতে চাইছেন না ঘরের বাইরে।
তারপরও পথে বেরোতে হচ্ছে– প্রয়োজনেই। সেই প্রয়োজন কারোর বাজার করার, কারোর শ্রম বেচে দিন শেষে পরিবারের সবার জন্য ভাতের বন্দোবস্তের। সরকারি ভাবেও চলছে সমাজের প্রান্তের মানুষের বিভিন্ন সহায়তা। প্রধানমন্ত্রী তাঁর টেলিভিশন ভাষণে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন খাবার নিয়ে না ভাবতে, পর্যাপ্ত খাবারের মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েও দিয়েছেন।