পশ্চিম মেদিনীপুরে ভিন রাজ্য থেকে ফেরতরাই হচ্ছে বিপদের কারন

1st April 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
পশ্চিম মেদিনীপুরে ভিন রাজ্য থেকে ফেরতরাই হচ্ছে বিপদের কারন


অজিত দাস [ দাসপুর ]; জেলায় প্রথম করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে সোমবার গভীর রাতে| ভিন্ রাজ্য ফেরত দাসপুরের বাসিন্দা ওই যুবককে মেদিনীপুর মেডিক্যাল থেকে পাঠানো হয়েছে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। এই ঘটনার পরে মূলত ভিন্ রাজ্য ফেরত পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে উদ্বেগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। কারণ, দেখা যাচ্ছে এঁদের অনেকেই সুরক্ষার বিধিনিষেধ মানছেন না।

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, গোড়ায় নিয়ম মানেননি দাসপুরের করোনা আক্রান্ত যুবকও। মুম্বই থেকে ফেরার দিনই দাসপুরের নিজামপুরের ওই যুবকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছিল। তাঁকে একা ঘরবন্দি হয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু ওই যুবক তা মানেননি। বাড়ি ফিরে পরিজনেদের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন। রাতে স্ত্রীর সঙ্গে এক ঘরে থেকেছেন। ফলে বিপদ বেড়েছে পরিজনদের। ওই যুবকের পরিজনেদের এখন গৃহ-পর্যবেক্ষণে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলার এক স্বাস্থ্যকর্তার কথায়, ‘‘ওই যুবক তো শুধু নিজে বিপদে পড়লেন না। বাবা, মা, স্ত্রী-পরিজনেদেরও বিপদ বাড়ালেন। তিনি বাবার সংস্পর্শেই বেশিবার এসেছেন। তাঁর বাবাকে নিয়েই এখন উদ্বেগ হচ্ছে।’’

গৃহ-পর্যবেক্ষণে থাকার নির্দেশ না মেনেই মূলত বিপদ বাড়াচ্ছেন ভিন্ রাজ্য ফেরতেরা। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা বলেন, ‘‘ভিন্ রাজ্য থেকে আসা লোকেদের এখন যে ভাবেই হোক ঘরের ভিতরে রাখতেই হবে। কেউ কেউ নির্দেশ মানছেন না। তাঁদের নির্দেশ পালন করতে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে।’’

জেলা প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরে এই সময়ের মধ্যে ২৭ হাজারেরও বেশি ভিন্ রাজ্য ফেরত মানুষ এসেছেন। বেশিরভাগই পরিযায়ী শ্রমিক। ওই সূত্র জানাচ্ছে, ২৬ মার্চ পর্যন্ত জেলায় ভিন্ রাজ্য ফেরত মানুষের সংখ্যা ছিল ২০,à§©à§§à§§ জন। ৩০ মার্চে পর্যন্ত জেলায় ভিন্ রাজ্য সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ২৭,১৩০। অর্থাৎ, এই ক’দিনেই নতুন করে প্রায় à§­ হাজার ভিন্ রাজ্য ফেরত মানুষকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের একাংশ চিকিৎসকদের কোনও নির্দেশই মানছেন না। দিনে অনেকে ইতিউতি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রাতে গ্রামের ঠেকে আড্ডা দিতে যাচ্ছেন। অনেককে না কি হাটে-বাজারেও যেতে দেখছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন সূত্র মারফত প্রশাসনের কাছে এমন খবর আসছে। একের পর এক অভিযোগ পেয়ে পরিস্থিতি সামলাতে কার্যত হিমসিম খাচ্ছে পুলিশ-প্রশাসন।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। à§©à§® বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck