পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে করোনায় আক্রান্ত যুবকের গোটা গ্রাম কোয়ারেন্টাইনে

2nd April 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে করোনায় আক্রান্ত যুবকের গোটা গ্রাম কোয়ারেন্টাইনে


ঘাটালঃ দাসপুরের করোনা আক্রান্ত যুবক নিজামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে।  দাসপুরের ওই গ্রামের এক যুবক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারপরই যেন আমূল বদল। গ্রামটি সিল করা হয়েছে। গ্রামের চারপাশে বসানো হয়েছে পুলিশি পাহারা। গোটা গ্রামই যেন কার্যত গৃহবন্দি। নিজেদের এই অবস্থার কথা জানিয়ে ভুক্তভোগীদের আর্জি, তাঁদের দেখে শিক্ষা নিক অন্য সমস্ত গ্রাম। অনেকে আবার বলছেন, ভিন রাজ্য থেকে ফেরা যুবকেরা যাতে বাইরে ঘুরে বেড়ানোর সাহস না পায়,তার দায়িত্ব নিক এলাকার মানুষই। এর অন্যথা হলে ঘরে বসে মৃত্যুর দিন গোনা ছাড়া বিকল্প পথ নেই। গ্রামের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক শান্তনু বর বলেন, ‘‘পাখির ডাক ছাড়া কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে পরাধীন। ভিন রাজ্য থেকে যাঁরা ফিরেছেন তাঁদের আরও সংযত হওয়া উচিত। তা না হলেও আরও খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতে পারে।’’

দাসপুর এক নম্বর ব্লকের নন্দনপুর দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজামপুর গ্রাম। এই গ্রামেরই যুবক মুম্বইয়ের মসজিদবাজারে সোনার কাজ করতেন। গত ২২ মার্চ তিন বন্ধুর সঙ্গে তিনি বাড়ি ফেরেন। তারপরই তাঁর শরীরে করোনার উপসর্গ ধরা পড়ে। গত ২৮ মার্চ মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষায় ধরা পড়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রমাণ। যুবকটিকে ভরতি করা হয়েছে কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। তাঁর পরিবারের ৬ জনকে পাঠানো হয়েছে সরবেড়িয়া বি সি রায় হাই স্কুলে তৈরি ৬০ শয্যার কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে। আর গোটা গ্রামটিকে সিল করে দেওয়া হয়।

তারপরই আতঙ্কের ছায়া গোটা দাসপুরে। নিজামপুর গ্রামটির মধ্য দিয়ে চলে গিয়েছে ওল্ড কাঁসাই নদী। কাঁসাই নদীর পশ্চিম পাড়ে যুবকটির বাড়ি। এই পাড়ে রয়েছে ১৫২টি পরিবার। নদী পারাপারের সমস্ত সাঁকো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাতে কেউ সাঁকো পেরিয়ে গ্রামে ঢুকে পড়তে না পারে বা বাইরে চলে যেতে না পারে, তাই এই ব্যবস্থা। গ্রামে ঢোকার সবকটি রাস্তাকে সিল করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি পরিবারকে হোম কোয়েরেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। এভাবেই থাকতে হবে অন্তত ১৪ দিন। রয়েছে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। জীবাণুনাশক স্প্রে করার কাজও শুরু হয়েছে।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। ৩৮ বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck