পূর্ব মেদিনীপুরে অধিকাংশ ডাক্তারের চেম্বারে তালা , বিপদে অসুস্থ মানুষ

6th April 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
পূর্ব মেদিনীপুরে অধিকাংশ ডাক্তারের চেম্বারে তালা , বিপদে অসুস্থ মানুষ


করোনা আতঙ্কের জেরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অধিকাংশ চিকিৎসকের চেম্বারে তালা পড়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি জেলাজুড়ে নার্সিংহোমগুলিতে চিকিৎসকদের যাতায়াত প্রায় বন্ধ। এর ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবা ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই অবস্থায় ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন(আইএমএ)-এর জেলা শাখার পদাধিকারীদের উদ্যোগী হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন জেলাশাসক পার্থ ঘোষ। এমবিবিএস, এমডি পাশ চিকিৎসকদের পাশাপাশি কোয়াক ডাক্তারদের একটা বড় অংশও এই মুহূর্তে চেম্বার বন্ধ রেখেছেন। গ্রামীণ এলাকায় কেউ অসুস্থ হলে চূড়ান্ত সমস্যায় পড়ছেন। অসুস্থদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গাড়ি কিংবা অ্যাম্বুলেন্সও মিলছে না।
দু’জন করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য তমলুক শহরের তিনজন চিকিৎসককে আইসোলেশনে রাখতে হয়েছিল। ওই তালিকায় তমলুক জেলা হাসপাতালের এক চিকিৎসক এবং প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করা আরও দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। দুই আক্রান্তকে ভর্তি করার জন্য তিনটি নার্সিংহোম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। ওই ঘটনার পর চিকিৎসকদের মধ্যে আতঙ্ক চেপে বসে। রাতারাতি তমলুক শহরে অন্তত ১০০টি চেম্বারে তালা পড়ে যায়।
তমলুক শহরে নার্সিংহোমের ছড়াছড়ি। শুধুমাত্র এই শহরেই রয়েছে ৪৮টি নার্সিংহোম। এছাড়াও প্রায় ১০০ চেম্বারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্র্যাক্টিস করেন। তমলুক থানার বল্লুক গ্রামের এক পানের ব্যবসায়ী এবং হলদিয়ার দুর্গাচক এলাকার এক হাতুড়ে চিকিৎসক তথা ওষুধ দোকানদার তমলুক শহরের তিনটি নার্সিংহোম ভর্তি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে দু’জনকেই কলকাতায় বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয় এবং তাঁদের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ওই ঘটনার পর থেকে জেলাজুড়ে অধিকাংশ নার্সিংহোম এবং চেম্বারে তালা ঝুলছে।
মহিষাদল ব্লকের অমৃতবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মাগুরী গ্রামের প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী রাধামাধব পট্টনায়ক(৯৩) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তমলুক শহরের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন। করোনা আতঙ্কের পরিবেশে ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ সমস্ত রোগীকে বাড়ি নিয়ে চলে যেতে বলে। তাছাড়া নার্সিংহোমে চিকিৎসকরাও যাচ্ছেন না। এই অবস্থায় রবিবার ভোররাতে সুশীল ধাড়ার সহযোগী ওই স্বাধীনতা সংগ্রামীর মৃত্যু হয়।
নার্সিংহোমগুলিতে চিকিৎসকরা যাচ্ছেন না। বিভিন্ন নার্সিংহোমে কর্মীরাও যাচ্ছেন না। অনেক জায়গায় রোগী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তমলুক শহরের পাশাপাশি হলদিয়া, কাঁথি, এগরা, পাঁশকুড়া, মেচেদা সর্বত্র ছবিটা একইরকম।
প্রোগ্রেসিভ নার্সিংহোম অ্যান্ড হসপিটাল অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক কানাইলাল দাস বলেন, চিকিৎসকরা নার্সিংহোমে আসতে চাইছেন না। যেসব কর্মী নার্সিংহোমে কাজ করেন, তাঁদের পরিবারের লোকজন কাজে আসতে দিচ্ছেন না। এরকম সমস্যার মধ্যে দিয়ে নার্সিংহোমগুলি চলছে। জেলাশাসক পার্থ ঘোষ বলেন, ডাক্তারদের চেম্বার এবং নার্সিংহোম স্বাভাবিক রাখার জন্য আইএমএ সংগঠনের কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন জানিয়েছি। আশা করি, ওঁরা আমাদের আবেদনে সাড়া দেবেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসদের পাশাপাশি কোয়াক ডাক্তাররাও করোনা আতঙ্কে নিজেদের চেম্বারে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বল্লুক গ্রামের করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের চিকিৎসা করে স্থানীয় শাবললাড়া গ্রামের এক কোয়াক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। হলদিয়ার দুর্গাচকেও একজন কোয়াক ডাক্তার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এই অবস্থায় জেলায় সাড়ে সাত হাজার কোয়াক ডাক্তারের মধ্যে সিংহভাগ চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছেন।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। ৩৮ বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck