মেদিনীপুর শহরজুড়ে ড্রোনে নজরদারি, লকডাউন ভাঙায় গ্রেপ্তার ৬

14th April 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
মেদিনীপুর শহরজুড়ে ড্রোনে নজরদারি, লকডাউন ভাঙায় গ্রেপ্তার ৬


মেদিনীপুর: সোমবার মেদিনীপুর শহরজুড়ে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালিয়ে লকডাউন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল পুলিস। ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি পেয়ে লকডাউন অমান্যকারী ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের বাইকও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, শহরজুড়ে ঠিকমতো লকডাউন মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে এদিন নজরদারি চালানো হয়েছিল। যেখানেই জটলা দেখা গিয়েছে, পুলিস গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে। শহরবাসী যাতে লকডাউন মেনে চলেন, তার জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
লকডাউন জারি হওয়ার পর এই শহরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘিঞ্জি বাজার সরিয়ে ফাঁকা মাঠে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। খোলা মাঠে সব্জি ব্যবসায়ীদের দূরত্ব বজায় রেখে দোকান করার কথা বলা হয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে রাস্তায় ছবি এঁকে শহরবাসীকে ঘরবন্দি থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পুলিস প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরজুড়ে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। তারপরও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে লকডাউন অমান্য করে অনেকেই রাস্তায় বেড়িয়ে পড়ছেন। বাইক নিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ। পুলিসের টহলদারি গাড়ির সামনে পড়লে অনেকে আবার দৌড়ে পালাচ্ছে। পাড়ার ভিতরেও অনেকে জটলা করছে। অনেকে আবার পুলিসের চোখে ধুলো দিতে ওষুধের পুরনো প্রেসক্রিপশন সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ছে। কেউ কেউ গ্যাস সংস্থার দেওয়া বইকেও হাতিয়ার করছে। পুলিস ধরলে গ্যাসের বই, ওষুধের প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করছে।
তাই লকডাউনের অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে এদিন পুলিসের গাড়ি টহল দেওয়ার পাশাপাশি ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে নজরদারি করা শুরু হয়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কলেজ মাঠ এলাকায় সব্জি বাজার রয়েছে। সেখানে দূরত্ব বজায় না রেখে ক্রেতাদের বাজার করার অভিযোগ রয়েছে। শহরের বেশ কয়েকটি সব্জি বাজারেই ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। কয়েকদিন আগে জেলা প্রশাসনের কর্তারা বাজারগুলিতে অভিযান চালিয়ে সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে সচেতন করেন। এদিন শহরের একাধিক সব্জি বাজারের আশপাশে ড্রোন ক্যামেরা উড়িয়ে ছবি সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া এদিন করোনা নিয়ে একাধিক সচেতনতার বার্তা লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বাইকে করে পুলিসকর্মীরা শহরজুড়ে টহল দেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে কলেজ মাঠ, পঞ্চুরচক, বটতলা চক, টিভি টাওয়ার মাঠ সহ বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি চালানো হয়। কোথায় কোথাও বেশি জটলা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। জায়গাগুলিকে চিহ্নিত করে নজরদারি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। à§©à§® বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck