গনধর্ষণকারীরা জামিনে ছাড়া পেয়েই ধর্ষিতার গায়ে লাগিয়ে দিল আগুন

6th December 2019 ভারত
গনধর্ষণকারীরা জামিনে ছাড়া পেয়েই ধর্ষিতার গায়ে লাগিয়ে দিল আগুন


বাংলা নিউজঃ দিনেদুপুরে রাস্তা দিয়ে ছুটছেন বছর তেইশের এক তরুণী। সর্বাঙ্গে জ্বলছে আগুন। সাহায্যের জন্য গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছেন। কিন্তু, এগিয়ে আসছেন না কেউই। প্রায় ১ কিলোমিটার এভাবে দৌড়নোর পর একজনকে দেখতে পেয়ে তাঁর ফোন থেকে নিজেই ১১২ ডায়ালে ফোন করে পুলিসে খবর দেন তরুণী। তখনই পুলিস এসে তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী হল উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার সিন্দুপুর গ্রাম। পুলিস জানিয়েছে, গত বছর ডিসেম্বরে দুই যুবকের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ওই তরুণী। জামিনে ছাড়া পেয়ে অভিযুক্ত ওই দু’জনই প্রতিশোধ নিতে তরুণীর গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এই কাজে তাদের সাহায্য করে আরও তিনজন। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। উন্নাওয়ের সার্কল অফিসার গৌরব ত্রিপাঠি জানিয়েছেন, ধৃতরা হল হরিশঙ্কর ত্রিবেদি, রামকিশোর ত্রিবেদি, উমেশ বাজপেয়ি, শিবম ত্রিবেদি এবং শুভম ত্রিবেদি। ওই কিশোরীকে এদিনই দিল্লিতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে শুয়েই সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট দয়াশঙ্কর পাঠকের সামনে এদিন রক্ত হিম করা ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন নির্যাতিতা তরুণী। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে শিবম ও শুভম ত্রিবেদি তাঁকে অপহরণ করে গণধর্ষণ করে। তিনি পুলিসে অভিযোগ দায়ের করলে অভিযুক্তদের জেল হয়। সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পেয়ে তারা প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, ওই মামলার কাজেই সকালে উন্নাওয়ের গ্রামের বাড়ি থেকে রায়বেরিলির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তিনি। বাড়ির অদূরে দৌরা মোড়ের কাছে পৌঁছতেই শিবম ও শুভম সহ আরও তিনজন তাঁকে ঘিরে ফেলে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অভিযুক্তরা তাঁর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। অগ্নিদগ্ধ অবস্থাতেই রাস্তা দিয়ে ছুটতে শুরু করেন ওই তরুণী। পুলিস তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। তারপর সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় জেলা হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও উপযুক্ত পরিকাঠামো না থাকায় শেষমেশ তাঁকে লখনউয়ের শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। 





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck