লকডাউনে পশ্চিম মেদিনীপুরে আটকে পড়া শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানো শুরু

19th April 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
লকডাউনে পশ্চিম মেদিনীপুরে আটকে পড়া শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানো শুরু


খড়্গপুর: লকডাউনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় আটকে পড়া রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর কাজ শুরু হল। দীর্ঘদিন তাঁরা বাড়ি ছেড়ে এই জেলার সরকারি আশ্রয়স্থলে ছিলেন। শুক্রবার রাতে জেলা ধরে ধরে সরকারি বাসে করে তাঁদের নিজের নিজের জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার আগে প্রত্যেকের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে দেওয়া হয় ফিট সার্টিফিকেট। এতদিন এই পরিযায়ী শ্রমিকদের জেলার খড়্গপুর, দাঁতন সহ বিভিন্ন সরকারি আশ্রয়স্থলে রাখা হয়েছিল।
পুলিস সুপার দীনেশ কুমার বলেন, এরকম চার শতাধিক শ্রমিককে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। এঁরা এতদিন সরকারি আশ্রয়স্থলে ছিলেন। তবে কেউ কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ছিলেন না। সরকারিভাবে তাঁদের বাড়ি ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, অন্য জেলা থেকে এই জেলায় বহু শ্রমিক কাজের জন্য আসেন। লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ার পর অনেকেই বাড়ি ফিরতে পারেননি। অনেকে হাঁটাপথে বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু, পুলিস তাঁদের যেতে না দিয়ে সরকারি আশ্রয়স্থলে রাখার ব্যবস্থা করে। এতদিন তাঁরা সেই সব আশ্রয়স্থলে ছিলেন। দাঁতনের একাধিক জায়গায় বিভিন্ন জেলার শ্রমিকদের রাখা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে তাঁরা ফিরে যান।
জানা গিয়েছে, যাওয়ার সুবিধার জন্য জেলা ধরে ধরে শ্রমিকদের নির্দিষ্ট বাসে তোলা হয়। খড়্গপুরের মহকুমা শাসক বৈভব চৌধুরী বলেন, এঁরা রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পরিযায়ী শ্রমিক। এতদিন পর বাড়ি ফিরতে পেরে সকলেই খুব খুশি।  
 





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। ৩৮ বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck