পশ্চিম মেদিনীপুর: দু’টি করোনা হাসপাতালে সবস্তরের স্বাস্থ্যকর্মীর নমুনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত

21st April 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
পশ্চিম মেদিনীপুর: দু’টি করোনা হাসপাতালে সবস্তরের স্বাস্থ্যকর্মীর নমুনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত


মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দু’টি করোনা হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিল জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। প্রথমে করোনা হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত সব স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা পরীক্ষা করা হবে। তারপর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীকেই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ওষুধও দেওয়া হবে।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা বলেন, দু’টি করোনা হাসপাতাল চালু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমস্ত রকম সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই হাসপাতালগুলিতে টানা কাউকে ডিউটি দেওয়া হচ্ছে না। রোটেশনে স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিউটি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এবার হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা সবস্তরের স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুরের আবাসে করোনার লেভেল-১ হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। এজন্য আয়ুষ হাসপাতালটি নেওয়া হয়েছে। পরে, দ্বিতীয় দফায় পাথরঘাটায় একটি বেসরকারি হাসপাতাল নিয়ে লেভেল-২ করোনা হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। দু’টি হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে ৭০-৮০জন কাজ করেন। ঠিক হয়েছে, এই হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সাতদিন করে ডিউটি করবেন। করোনার উপসর্গ থাকা রোগীদেরই মূলত এই দু’টি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই জেলা ছাড়াও পাশের জেলা ঝাড়গ্রাম থেকে করোনার উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসেন। এখনও পর্যন্ত করোনা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া তিনজন রোগীর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। প্রতিদিন বহু রোগী দু’টি হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এন-৯৫ মাস্ক দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও গ্লাভস, পিপিই সহ সমস্ত সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। এতদিন দু’টি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদেরই শুধু করোনা পরীক্ষা করা হতো। এবার হাসপাতালের সবস্তরের স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। ৩৮ বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck