মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দু’টি করোনা হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিল জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। প্রথমে করোনা হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত সব স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা পরীক্ষা করা হবে। তারপর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীকেই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ওষুধও দেওয়া হবে।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা বলেন, দু’টি করোনা হাসপাতাল চালু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমস্ত রকম সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই হাসপাতালগুলিতে টানা কাউকে ডিউটি দেওয়া হচ্ছে না। রোটেশনে স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিউটি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এবার হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা সবস্তরের স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুরের আবাসে করোনার লেভেল-১ হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। এজন্য আয়ুষ হাসপাতালটি নেওয়া হয়েছে। পরে, দ্বিতীয় দফায় পাথরঘাটায় একটি বেসরকারি হাসপাতাল নিয়ে লেভেল-২ করোনা হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। দু’টি হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে ৭০-৮০জন কাজ করেন। ঠিক হয়েছে, এই হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সাতদিন করে ডিউটি করবেন। করোনার উপসর্গ থাকা রোগীদেরই মূলত এই দু’টি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই জেলা ছাড়াও পাশের জেলা ঝাড়গ্রাম থেকে করোনার উপসর্গ নিয়ে অনেক রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসেন। এখনও পর্যন্ত করোনা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া তিনজন রোগীর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। প্রতিদিন বহু রোগী দু’টি হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এন-৯৫ মাস্ক দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও গ্লাভস, পিপিই সহ সমস্ত সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। এতদিন দু’টি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদেরই শুধু করোনা পরীক্ষা করা হতো। এবার হাসপাতালের সবস্তরের স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।