নয়াদিল্লি, ২৩ এপ্রিল: করোনার এই বিপদের সময়েও বিজেপি সাম্প্রদায়িকতার ভয়ঙ্কর ভাইরাস ছড়াচ্ছে। আজ এই মর্মেই তোপ দাগলেন কংগ্রেস সুপ্রিমো সোনিয়া গান্ধী। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তিনি বলেন, গোটা দেশ যখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে মরিয়া, বিজেপি তখন সাম্প্রদায়িক ভাইরাস ছড়াতে ব্যস্ত। সাম্প্রদায়িকতার ভাইরাস ছড়িয়ে দেশের সম্প্রীতির ব্যাপক ক্ষতি করার চেষ্টা হচ্ছে মন্তব্য করে সোনিয়া গান্ধী বলেন, এই ক্ষতি পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন হলেও আমরা হাল ছাড়ব না।
করোনার সংক্রমণ ছড়ানোর সঙ্গে কোনও জাতি, ধর্মের সম্পর্ক নেই বলে সরকারের পক্ষে বার বার বলা হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও দিল্লির নিজামুদ্দিনের তবলিগি জমায়েত করোনার সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ, এই মর্মে প্রচার চলছে। মহারাষ্ট্রের পালঘরে দুই হিন্দু সাধুর হত্যার ইস্যুকেও ধর্মের রং দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ। একটি টিভি চ্যানেলে এ ব্যাপারে সোনিয়া গান্ধীর নামও জড়ানো হয়েছে। সেসব কথা মাথায় রেখেই আজ বিজেপিকে এক হাত নিয়েছেন কংগ্রেস সুপ্রিমো। ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এই ব্যাপারে প্রস্তাবও পাশ হয়েছে।
আরও এক ধাপ এগিয়ে দলের সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা সরাসরি নরেন্দ্র মোদিকে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়েন। বলেন, মোদিজি, সাহস থাকলে চাটুকার বন্ধু টিভি চ্যানেলের আড়ালে নয়। মুখোমুখি সোনিয়া গান্ধীর সামনে বসুন। যে মহিলা গত ৫২ বছর নিঃস্বার্থভাবে দেশ সেবা করছেন, তাঁকে অপমানের নিন্দা না করে প্রধানমন্ত্রী এখনও চুপ কেন? প্রশ্ন তোলেন সুরজেওয়ালা। তাঁর তোপ, বিজেপির সংস্কৃতিই হল সাম্প্রদায়িকতার আগুন নিয়ে খেলা। তাই আমরা সবাই যেখানে করোনা মহামারী নিয়ে চিন্তিত, বিজেপি তখন জাতি, ধর্ম খুঁজছে।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আজ কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক বসে। সেখানে বিজেপিকে তোপ দাগার পাশাপাশি কেন্দ্রের কাজেরও সমালোচনা করা হয়। পরিযায়ী শ্রমিকদের বিশেষ ব্যবস্থায় রাজ্যে ফেরানো, বিদেশে অসহায়ভাবে আটকে থাকা ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনার উপরও জোর দেওয়া হয়। গরিবদের হাতে টাকা, খাবার, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি ঋণ মকুবের দাবিও করেছে কংগ্রেস। বৈঠকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেন, রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের সমন্বয় এবং রাজ্যকে আর্থিক সাহায্য না করলে করোনার মোকাবিলা করা কঠিন। কারণ আদতে করোনার সঙ্গে লড়ছে রাজ্যগুলিই।
বৈঠকে পি চিদম্বরম, এ কে অ্যান্টনি, আহমেদ প্যাটেল, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অধীররঞ্জন চৌধুরী সহ কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও যোগ দেন। আগামী ৩ মে’র পর লকডাউন উঠলে দেশের হাল কীভাবে ফেরানো হবে, তা নিয়ে সরকারের কাছে এখনও স্পষ্ট দিশা কেন নেই, তা নিয়ে কেন্দ্রকে চেপে ধরা হবে বলে ঠিক হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বৈঠকে রাহুল গান্ধী বলেছেন, লকডাউনের পর লকডাউন কোনও পন্থা হতে পারে না। তাই হটস্পট এলাকা বাদে বাকি গ্রিন জোনে স্বাভাবিক জীবনযাপন ফেরানো উচিত। এভাবে চলতে পারে না। তাহলে দেশের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হবে বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি। করোনার সন্ধান পেতে ব্যাপক হারে টেস্ট করার ওপরই জোর দিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।