বর্ধমান: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে এখন দেশজুড়ে লকডাউন চলছে। এ রাজ্যের হাজার হাজার শ্রমিক ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে লকডাউনে আটকে রয়েছেন। তাঁরা এখনও বাড়ি ফিরতে পারেননি। ভিন রাজ্যে আটকে পড়া ওই শ্রমিকদের এক হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘স্নেহের পরশ’ নামে একটি নতুন প্রকল্প চালু করেছেন। সেই প্রকল্পে পূর্ব বর্ধমান জেলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ২১ হাজার শ্রমিক আবেদন করেছেন। তবে, তার মধ্যে ৮ হাজার আবেদন বাতিল করা হয়েছে। কারণ, ওই শ্রমিকেরা ভিন রাজ্যে কাজ করলেও লকডাউনের আগেই তাঁরা জেলায় ফিরে এসেছেন। বর্তমানে তাঁরা জেলাতেই রয়েছেন। তাই তাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে। যাঁরা ভিন রাজ্যে আটকে রয়েছেন, কেবলমাত্র তাঁরাই এই সুবিধা পাবেন। রাজ্য সরকারের এই মানবিক উদ্যোগে খুশি ভিন রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকরা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, লকডাউন চলাকালীন গত ২০ এপ্রিল রাজ্য সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর স্নেহের পরশ প্রকল্প নিয়ে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে পরিষ্কার বলে দেওয়া আছে, করোনার জন্য যে মাইগ্রেন্ট শ্রমিকেরা গত ২৪ মার্চ থেকে লকডাউনের জন্য অন্য রাজ্যে আটকে পড়েছেন, তাঁদের জন্য এই প্রকল্প। তাঁদের প্রত্যেককে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে। এবং প্রমাণ স্বরূপ তার শংসাপত্রও থাকতে হবে। যেহেতু ভিন রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকের জন্য এই প্রকল্প তাই, অনলাইনে আবেদনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কারণ, তাঁদের কারও পক্ষে সরজমিনে এসে আবেদন করা সম্ভব নয়। অনলাইনে আবেদন সহজ করার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্নেহের পরশ’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা যাচ্ছে। এবং রাজ্য সরকারের ‘এগিয়ে বাংলা’ থেকেও পাওয়া যাচ্ছে।
মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করার জন্য আবেদনকারীকে একটি করে ছবি দিতে হচ্ছে। খাদ্যসাথী কার্ডের নম্বর অথবা ভোটার কার্ড নম্বর অথবা আধার কার্ড নম্বর দিতে হবে। আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর সহ বিস্তারিত দিতে হবে। মোবাইল নম্বরও দিতে হবে। সেই সঙ্গে স্থানীয় সংযোগকারী হিসেবে একজনের নাম, মোবাইল নম্বর, আবেদনকারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও উল্লেখ করতে হবে। সেই আবেদন খতিয়ে দেখার পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে প্রশাসন। তারপরই আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অনুদানের এক হাজার ঢুকে যাবে। তাঁর দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএসও পৌঁছবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যেহেতু মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হচ্ছে, তাই আবেদনকারী কোন এলাকা এবং কোথা থেকে আবেদন করছেন, তা জানতে পারছে প্রশাসন। কারণ, আপলোডের লোকেশন জানা যাচ্ছে। তারই সূত্র ধরে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৮ হাজার আবেদন বাতিল হয়েছে। ফলে, যাঁরা কারা ভিন রাজ্য থেকে আবেদন করছেন, আর কারা জেলা থেকেই আবেদন করছেন, তা সহজেই ধরা পড়ে যাবে।