৫টি কন্টেইনমেন্ট জোন উঠে যাচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুরে

12th May 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
 ৫টি কন্টেইনমেন্ট জোন উঠে যাচ্ছে  পশ্চিম মেদিনীপুরে


বুধবার থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ছ’টি কন্টেইনমেন্ট জোনের মধ্যে পাঁচটিই তুলে দেওয়া হচ্ছে।নতুন করে আরও একটি কন্টেইনমেন্ট জোন চালু হবে।সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তরের বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা বলেন, মঙ্গলবারই বিজ্ঞপ্তি জারি করে পাঁচটি জোন তুলে দেওয়া হবে। মেদিনীপুর শহরে নতুন একটি ওয়ার্ড কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে যুক্ত হবে। তবে, ওই ওয়ার্ডের গোটা এলাকা সিল করা হচ্ছে না। নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে তা কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হবে। সেই অর্থে বুধবার থেকে জেলায় দু’টি কন্টেইনমেন্ট জোন থাকবে।

জেলাশাসক রশ্মি কমল, পুলিস সুপার দীনেশ কুমার, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা, অতিরিক্ত জেলাশাসক উত্তম অধিকারী, ডেপুটি সিএমওএইচ-১ সৌম্য ষাড়েঙ্গী, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। গত সপ্তাহে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তরের বৈঠকে জেলায় পাঁচটি জায়গাকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। গত বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দাসপুর- ১ ব্লকের নিজামপুর গ্রামকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে রাখা হয়েছিল। খড়্গপুর একাধিক আরপিএফ কর্মী করোনায় আক্রান্ত হন। খড়্গপুর শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুরানো টিভি হাসপাতাল চত্বর এবং ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রিজার্ভ কোম্পানির বারাক এলাকাকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে রাখা হয়েছিল। ঘাটালে অ্যাম্বুলেন্স চালক করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহাপাত্রপাড়াকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে রাখা হয়েছিল। আর খড়্গপুরে করোনায় আক্রান্ত এক আরপিএফ কর্মী মেদিনীপুর স্টেশন চত্বরে একটি কোয়ার্টারে কিছুদিন ছিলেন। সেই বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মেদিনীপুর শহরের ২৪ এবং ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের গেটবাজার এলাকাটিকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে রাখা হয়েছে। পরে, ক্ষীরপাই পুরসভা এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এক বৃদ্ধ করোনায় আক্রান্ত হন। দু’দিন আগে নতুন করে ওই ওয়ার্ডটিকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
মেদিনীপুর শহরের একটি নার্সিংহোমের এক নার্স দিন দুই আগে করোনায় আক্রান্ত হন। তিনি পূর্ব মেদিনীপুরে পাঁশকুড়া করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ক্ষীরপাই পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডটি কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে থাকছে।
স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, নতুন করে কোনও আক্রান্ত না হওয়ায় বাকি পাঁচটি কন্টেইনমেন্ট জোন বুধবার থেকে তুলে দেওয়া হবে। আর মেদিনীপুর পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডটি নতুন করে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এমনিতেই ওই নার্স করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরপরই তাঁর সংস্পর্শে আসা ১৫জনকে চিহ্নিত করে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। তিনি যে নার্সিংহোমে চাকরি করতেন, সেটি স্বাস্থ্যদপ্তরের পক্ষ থেকে সিল করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনি যে মেসে থাকতেন, সেই মেসটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। এবার ওই এলাকাটি কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। ৩৮ বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck