ধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২০ লক্ষ কোটি টাকার ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্যাকেজের রূপরেখা কী হবে, নিয়ে অধীর অপেক্ষা ছিল দেশবাসী।মোদিজির সেই হাই ভোল্টেজ প্যাকেজ সংক্রান্ত প্রথম দিনের বিস্তারিত ঘোষণায় আজ কার্যত সবাইকে নিরাশই করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন
ক্ষুদ্র শিল্প থেকে বেতনভোগী বেসরকারি কর্মী, রিয়েল এস্টেট থেকে সরকারি ঠিকাদার, এই বিস্তৃত সেক্টরের জন্য একঝাঁক ঘোষণা করা হলেও, সরাসরি অতিরিক্ত অর্থের জোগান কিংবা সাশ্রয় হল না কোনও ক্ষেত্রেই। এই সঙ্কটে রাজকোষ থেকে মানুষের হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে যে প্রবল প্রত্যাশার জন্ম হয়েছে, সেটা অন্তত প্রথম দিনে পূরণ হয়নি। কোনও ঘোষণা নেই অসহায় পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্যও। কোণঠাসা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প অপেক্ষায় ছিল জিএসটি মকুব সহ প্রত্যক্ষ কিছু আর্থিক সহায়তা পেতে। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর ঘোষণায় পাওয়া গেল চিরাচরিত প্রথায় শুধু লোনের দাওয়াই। ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প সংস্থা আরও যাতে নির্বিঘ্নে বেশি করে লোন নিতে পারে, সেই লক্ষ্যে, গ্যারান্টিমুক্ত ৩ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার ঘোষণা করেছে কেন্দ্র।
আগামী তিনমাসের জন্য কর্মী ও কর্মদাতা সংস্থা উভয়ের ক্ষেত্রে কর্মচারী প্রভিডেন্ট ফান্ডের মাসিক প্রদেয় ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হল। আয়করদাতাদের এই অস্থির সময়ে যাতে ট্যাক্স রিটার্ন নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে না হয়, সে বিষয়ে স্বস্তি দিতে ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নের সময়সীমা পিছিয়ে করা হল ৩০ নভেম্বর। সরকারি ঠিকাদার সংস্থাগুলির যে কোনও চুক্তি ও কর্মসমাপ্তির সময়সীমাকে ছ’মাস বাড়িয়ে দিলেন অর্থমন্ত্রী। রিয়েল এস্টেট সেক্টরকে সুরাহা দিতে রাজ্য সরকারগুলিকে কেন্দ্র নির্দেশিকা পাঠাচ্ছে, যাতে রেজিস্ট্রেশন ও কমপ্লিশন সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে আরও ছ’মাস অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয় তাদের। করোনা ভাইরাসের কারণে চলা লকডাউনের জেরে দেশের শিল্প উৎপাদন ইউনিট স্তব্ধ। তাই রাজ্যে রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থাগুলির আয় বন্ধ হয়ে আর্থিক সঙ্কট চরমে। সেই সমস্যার সমাধানে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থার জন্যও ৯০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ দিয়েছে সরকার।৪৫ দিনের মধ্যে ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থাগুলির পাওনা টাকা মিটিয়ে দেবে বলেও আজ অর্থমন্ত্রী জানান। আজ প্রথম দিনে কর্মসংস্থান, কৃষি, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি দোকানি, ব্যবসায়ী অথবা বৃহৎ শিল্প সম্পর্কে কোনও ঘোষণা হয়নি।পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অর্থমন্ত্রী এনিয়ে কিছু না বললেও বুধবার রাতেই পিএমও’র তরফে করোনা মোকাবিলায় পিএম কেয়ার্স ফান্ড থেকে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। আজ দীর্ঘ সাংবাদিক সম্মেলনেও উত্তর পাওয়া গেল না সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির—এই ২০ লক্ষ কোটি টাকা আসবে কোথা থেকে?