যোগী সরকারের ‘অমানবিক’ ভূমিকায় বেজায় ক্ষুব্ধ মমতা

16th May 2020 11:49 am ভারত
যোগী সরকারের ‘অমানবিক’ ভূমিকায় বেজায় ক্ষুব্ধ মমতা


লকডাউনপর্বে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়া শ্রমিকদের জন্য খাদ্য ও পানীয় জলের ব্যবস্থা যে বা যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চালু করার নির্দেশ দিল উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন। গত ১১ মে সেখানকার বুলন্দশহর এলাকার পুলিসের তরফে ওই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। বিজেপি পরিচালিত উত্তরপ্রদেশ সরকারের এহেন পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘনিষ্ঠ মহলে এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে বিজেপির অবস্থান ঠিক কী, তা স্পষ্ট হল। যোগী আদিত্যনাথ সরকারের এহেন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ট্যুইট করেছেন সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব সহ আরও অনেকে। ট্যুইটারে উত্তরপ্রদেশ পুলিসের ওই নির্দেশটি সংযুক্ত করেছেন যোগেন্দ্র।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের বক্তব্য, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতেই পুলিসের তরফে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। কারণ হেঁটে গন্তব্যের দিকে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের খাবার ও পানীয় জলের লোভ দেখিয়ে অনেকেই তাঁদের বাড়ির সামনে আটকে দিচ্ছেন। খাবার ও পানীয় জল বিতরণ করার নামে লঙ্ঘন করা হচ্ছে লকডাউনবিধি। এতে করোনা সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাই লোকজনকে সতর্ক করতেই ওই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিস জানিয়েছে, নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মহামারী অধিনিয়ম আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, বুলন্দশহর, গৌতম বুদ্ধ নগর, গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদ এবং গুরুগ্রাম সহ উত্তরপ্রদেশের আরও বেশ কয়েকটি অংশ দিয়ে এই প্রচণ্ড গরমে হেঁটেই নিজ রাজ্যের দিকে রওনা দিয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। পথের মাঝে ব্যাক্তিগত এবং সমষ্টিগত ভাবে তাঁদের খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করছেন অনেকেই। তা থেকেই করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা করছে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন। যদিও লকডাউনের প্রথম পর্বে মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড এবং হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীদের যোগী আদিত্যনাথের অনুরোধ ছিল, আমার রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের খাবার এবং আশ্রয়ের ব্যবস্থা করুন, যা খরচ হবে তা উত্তরপ্রদেশ সরকার বহন করবে।





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck