অসুস্থ শিশুকে কাঁধে নিয়ে ১৩০০ কিমি পথ পাড়ি

18th May 2020 9:16 am ভারত
অসুস্থ শিশুকে কাঁধে নিয়ে ১৩০০ কিমি পথ পাড়ি


কতটা পথ হাঁটলে তবে বাড়ি ফেরা যায় তা পরিযায়ী শ্রমিকেরা জানেন না। তাঁরা শুধু জানেন বাড়ি ফিরতে হবে। আর কোনও আশাতেই পড়ে থাকা যাবে না ভিন রাজ্যে। উত্তরপ্রদেশের সেরিংয়ের রাস্তায় অসুস্থ শিশুকে বাঁশ-কাপড়ের স্ট্রেচারে শুইয়ে নিয়ে খালি পায়ে হেঁটে বাড়িতে দেখা গেল একটি পরিবারকে। পায়ে জুতো না থকালেও মনে রয়েছে অদম্য জেদ। তাতেই ভরসা করে একই পরিবারের ১৭ জন সড়ক পথে হেঁটে ফিরছেন নিজেদের গ্রাম মধ্যপ্রদেশের সিঙ্গরৌলিতে। লুধিয়ানা থেকে হাঁটতে শুরু করেছেন তাঁরা। জানা যায়, তাদের পরিবারের ছোট ছেলেটির ঘাড় ভেঙে গেছে। যন্ত্রণার কাতরাচ্ছে সে। তাতে কী, বাড়ি তো ফিরতে হবে। তাই হাঁটা থামায়নি ওই পরিবার। গুরুতর আহত শিশুটিকে বহনের জন্যে বাঁশ ও কাপড় দিয়ে হাতে তৈরি একটি স্ট্রেচার বানিয়েছেন। পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্যকে সেই স্ট্রেচারে শুইয়ে কাঁধে করেই পথ হেঁটেছেন তাঁরা। এই শিশুটিকে নিয়েই তাঁরা পার হবেন ১৩০০ কিলোমিটার। অর্থের অভাবে বাস বা ট্রাক ভাড়ার সামর্থ্য নেই এই পরিবারের। সরকারের কাছে সাহায্য চাইতে গেলে সেখানেও প্রয়োজন অর্থের। অর্থ ছাড়া যে জীবন অচল তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন এই পরিযায়ী শ্রমিকরা। স্বজনের থেকে দূরে থেকে অর্থ উপায়ই যে তাঁদের জীবনকে অর্থহীন করে তুলবে তা তাঁদের কল্পনার অতীত ছিল।

পরিবারের এক সদস্য জানান, “উত্তরপ্রদেশের কানপুরে যাওয়ার পরে শেষ পর্যন্ত সহায়তা পাই। ততক্ষণে অসুস্থ ছেলেটিকে কাঁধে বয়ে আমরা প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এসেছি। কানপুরের পুলিশ আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি ট্রাকের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।” তবে বাড়ি ফেরার এই করুণ চিত্র নতুন নয়। লকডাউনের আবহে আকছার দেখা মিলছে এই ছবি। কোথাও হেঁটেই বাড়ি ফিরতে সমর্থ হচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। কোথাও বা দুর্ঘটনার কবলে পরে রাস্তাতেই মিলিয়ে হয়ে যাচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার শেষ আশা।





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck