ইয়াকুব এর কোলে মাথা রেখে বন্ধু অমৃত ঢলে পড়লো মৃত্যুর মুখে

19th May 2020 9:27 am ভারত
ইয়াকুব এর কোলে মাথা রেখে বন্ধু অমৃত ঢলে পড়লো মৃত্যুর মুখে


অমৃত রামচরণ গুজরাটের সুরাত অঞ্চলে বস্ত্র কারখানায় কাজ করতো৷ বাড়ি উত্তর প্রদেশে। ৪০০ টাকা দিনে উপার্জন ছিল। লকডাউনে যথারীতি কাজ ছিল না, টাকা ও ফুরিয়ে আসছিল৷ সে ও তার বন্ধু ঠিক করে বাড়ি ফিরে যাবে। ওদের দুজনেরই বাড়ি বস্তি জেলায়। হেঁটে ফেরারর পরিকল্পনা করছিল কিন্তু হঠাৎ একটা লড়ির খোঁজ পায়। জনপ্রতি চার হাজার টাকা নেবে গুজরাট থেকে উত্তর প্রদেশে নিয়ে যেতে। যা সঞ্চয় ছিল তা দিয়ে ওরা দুজনের আট হাজার টাকা দিয়ে দেয়। ঘরে পৌঁছে দিক!

ও বলা হয়নি। কাজের সূত্রেই অমৃত রামচরণ বন্ধুত্ব পাতায় ইয়াকুব মোহাম্মদের সাথে। দুজনেই এক জেলার মানুষ, এক ভাষা, একই ঘামের গন্ধ, একই মনখারাপ বাড়ির থেকে দূরে থাকায়। রাম আর ইয়াকুব লড়িতে উঠে পরে। কিন্তু ৪০ ডিগ্রির এই তাপমাত্রায় টানা ১৪৫০ কিলোমিটার চালাতে ও ২৬ ঘন্টা লেগে যায়। জল নেই, খাবার সামান্য, গাদাগাদি করে ভেড়ার পালের মতো লড়িতে চলা। চাঁদিফাটা রোদ মাথায় নিয়ে অসুস্থ হয়ে পরে অমৃত রামচরণ। ১০৫ জ্বর, টানা বমি, মাথা ব্যাথা।

ওই ২০ ফুট বাই ২০ ফুট লড়িতে প্রায় ৫০জন মানুষ জল দিয়ে, ফল দিয়ে চেষ্টা করে ওকে সুস্থ করতে। কিন্তু লাভ হচ্ছেনা। ডাক্তারই বা কই আশেপাশে। এদিকে যাত্রীরা ভয় পেতে শুরু করে, কোরোনা হয়েছে ভেবে! ওরা লড়িটাকে ঘুরিয়ে কোন হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারতো কিন্তু একজনের জন্য কি এতোজনের বাড়ি ফেরা থমকে যেতে পারে? ওরা ঠিক করলো রামচরণকে লড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার। নিশ্চয়ই পুলিশ দেখতে পাবে ওকে, ওরাই নিয়ে যাবে।

১০৫ জ্বর, আধা বেহুশ এক মানুষকে একা ফেলে চলে যাওয়া যায়? এতে ঘরে ফেরার আনন্দ ফিকে হয়ে যাবে না? ইয়াকুব মোহাম্মদ ঠিক করে ওও নেমে যাবে। বন্ধুর সাথেই থাকবে। পরে না হয় দেখা যাবে কি করে বাড়ি ফেরা যায়। মধ্যপ্রদেশের হাইওয়েতে ওদের নামিয়ে দেওয়া হয়। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দুপুর রোদে রাস্তার ধারে ইয়াকুব মোহাম্মদের কোলে মাথা রেখে রাম। ইয়াকুব যাকে পারছে আকুতি করছে, "এ ভাইয়া, ইসকো হাসপাতাল লে চালো না"। জলপট্টি দিচ্ছে নিজের রুমাল ভিজিয়ে, হাওয়া করছে। রাম অস্ফুটে ইয়াকুবকে কিছু বলে চলেছে, ইয়াকুব খুব মনোযোগ দিয়ে সে সব শুনে উত্তর দিয়ে চলেছে। দুই বন্ধুর কথোপকথন। ইতিমধ্যে অন্যান্য লোকের খোঁজ পেয়ে পুলিশ আসে। রামকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনো রাম মোহাম্মদের কোলে শুয়ে। ইয়াকুব আশ্বাস দিচ্ছে " সব ঠিক হো জায়েগা মেরে ভাই"।

এরপর সূর্য ঢোবার আগেই রাম চলে গেল। এ দেশের এক পরিযায়ী শ্রমিক অমৃত রামচরণ। ইয়াকুব মোহাম্মদ যার এতোক্ষণে বাড়ির কাছে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল তার সবরকম চেষ্টা ব্যার্থ করে ওর বন্ধু চলে গেল। রামের মৃতদেহের কিছু দূরে দাঁড়িয়ে অঝোর কাঁদছে এদেশের রাম। আসলে এক বন্ধু আরেক বন্ধুর বিয়োগে কাঁদছে। জায়গাটির নাম শিবপুরি।

বহু দূরে কিছু মানুষ তখনো হয়তো জিহাদ, মন্দিরে মাংস ছুঁড়ে দেওয়া, মসজিদ গুড়িয়ে দেওয়া, একে পাকিস্তানে পাঠানো, ওকে হিন্দু হৃদয়সম্রাট বানানোর খেলায় মেতে আছে। দু তরফই এক্কাট্টা হতে বলছে দুই সম্প্রদায়ের মানুষকে। সামান্য যেটুকু আলো তাতে বেঁচে ইয়াকুব মোহাম্মদ আর অমৃত রামচরণ। এক বন্ধুর কোলে মাথা রেখে আরেক বন্ধু শুয়ে। বন্ধুত্বের আবার ধর্ম হয় নাকি?

©----- ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck