আম্ফান ঝড়ে প্রান গেল ৮০ র বেশি মানুষের

23rd May 2020 3:03 pm পশ্চিমবঙ্গ
আম্ফান ঝড়ে প্রান গেল ৮০ র বেশি মানুষের


কলকাতা: প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, প্রবল ঝড়ে রাজ্যের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের ছবি একবার নিজের চোখে এসে দেখে যান। আমি নিজেও উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা পরিদর্শনে যাব। এমন বিপর্যয় জীবনে দেখিনি। বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে একথা বলার অব্যবহিত পর জানা যায়, তাঁর অনুরোধে সাড়া দিয়ে শুক্রবারই রাজ্যের ঝড় বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা ১০টা ২০ মিনিটে তিনি কলকাতা বিমানবন্দরে নামবেন। তারপর আকাশপথে প্রধানমন্ত্রীকে দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখাবেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত বসিরহাটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকও হবে।
বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘরে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান সচিবের সঙ্গে বৈঠক করে কী করে দুর্গত এলাকার পুনর্গঠনের কাজ শুরু করা যায় তার রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, গাছ পড়ে, দেওয়াল চাপা পড়ে, টিন উড়ে এসে ৮০ জন মারা গিয়েছেন। কলকাতায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা করে সাহায্য দেওয়ার কথাও তিনি ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অমিত শাহ আমাকে ফোন করেছিলেন। বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। করোনা মোকাবিলায় হাজার কোটি খরচ হয়েছে, ক্ষতিপূরণ পাইনি। এবার আরও ক্ষতি হয়েছে। দেখা যাক, কেন্দ্র কী দেয়!
মমতা এদিন বিভিন্ন দপ্তরকে কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, এমনভাবে কাজ করবেন, যেন তিন বছরে আর হাত দিতে না হয়। অপ্রয়োজনীয় খরচ করা যাবে না। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে দেখে সাতদিনে সার্ভে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ঘূর্ণিঝড় প্রভাবিত এলাকায় পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহের নির্দেশও দেন তিনি। প্রাথমিকভাবে যে রিপোর্ট নবান্নে পৌঁছেছে, তার উপর ভিত্তি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুই ২৪ পরগনা ও কলকাতা সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ড্রোন উড়িয়ে ক্ষয়ক্ষতির সমীক্ষা করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে সাতটি জেলার বিরাট ক্ষতি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলির অবস্থা দেখে নিতে হবে।





Others News

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ


News: জাওয়াদ আসার আগেই পূর্বাভাস অনুযায়ী কলকাতায় বাড়ল দিন ও রাতের তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২৯.à§­ ডিগ্রি যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি বেশী। বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা ছিল à§§à§®.à§§ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশী। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে  হয়েছে ৯৪ শতাংশ। 

জাওয়াদের প্রভাবে শুক্রবার উপকূলের দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলের পর সমুদ্রে উঁচু ঢেউ থাকবে এবং উপকূল এলাকায় ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইবে। 

ধেয়ে আসছে ‘জাওয়াদ’। আগামী শনিবার উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি কোনও জায়গায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। তার জেরে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই যাঁরা মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে গিয়েছেন তাঁদেরও ফিরতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকদেরও ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


blanck