মেদিনীপুরের দাসপুর ও কেশপুরে করোনা আক্রান্ত ছয়

23rd May 2020 8:02 pm পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
মেদিনীপুরের দাসপুর ও কেশপুরে করোনা আক্রান্ত ছয়


পশ্চিম মেদিনীপুরে এক ধাক্কায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ল ছয়। কেশপুর ও দাসপুরে তিনজন করে সংক্রমিত হয়েছেন। জেলায় এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল ২৭।

কেশপুরে যে তিনজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাঁরা প্রত্যেকেই পরিযায়ী শ্রমিক। আর দাসপুরের ক্ষেত্রে আক্রান্তেরা ফিরেছেন দিল্লি থেকে। তাঁরা সোনার কারিগর এবং তাঁদের পরিবারের সদস্য।

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, কেশপুরের তিন আক্রান্ত যুবকের মধ্যে একজন কেশপুরের কাকতার বাসিন্দা, বয়স ২৭। তিনি মুম্বইয়ে জরির কাজ করতেন। আরেকজন রাউতার বাসিন্দা, বয়স ২৬। তিনিও মুম্বইয়ে জরির কাজ করতেন। অন্যজন মোহবনির বাসিন্দা, বয়স ১৮। তিনি মুম্বইয়ে দর্জির কাজ করতেন। লকডাউনে কেশপুরের বেশ কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিক মুম্বইয়ে আটকে ছিলেন। এঁদের মধ্যে এই শ্রমিকেরাও ছিলেন। পরে ওই তিনজন সহ কয়েকজন বিশেষ ট্রেনে মুম্বই থেকে ফেরেন। গত ১৮ মে তাঁরা কেশপুরে পৌঁছন। শুরুতে খড়্গপুরে আসেন। সেখান থেকে কেশপুরে। মুম্বই ফেরত সূত্রে ওই পরিযায়ীদের করোনা পরীক্ষার জন্য লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। মেদিনীপুরের লেভেল- ১ করোনা হাসপাতালে তাঁদের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। নমুনা পাঠানো হয়েছিল মেদিনীপুর মেডিক্যালে। বুধবার রাতে নমুনা পরীক্ষা হয়। ওই তিনজনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে। বৃহস্পতিবার রিপোর্ট পেয়েছে জেলার স্বাস্থ্যভবন। এরপরই তড়িঘড়ি ওই তিন করোনা আক্রান্তকে পাঁশকুড়ার করোনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আক্রান্তদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সংস্পর্শে কারা এসেছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কেশপুরের ক্ষেত্রে যেমন মুম্বই যোগ রয়েছে, দাসপুরের ক্ষেত্রে সে যোগ দিল্লির। সেখানকার গাঁধীনগরে পাশাপাশি থাকত দাসপুরের সোনার কারিগর দু’টি পরিবার। গত à§§à§« মে দিল্লি থেকে স্পেশাল ট্রেনে ওই পরিবারের আটজন সদস্য খড়্গপুরে ফিরেছিলেন। সেখানে তাঁদের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। একটি গাড়ি ভাড়া করে তাঁরা ফিরেছিলেন দাসপুর। বৃহস্পতিবার ওই দুই পরিবারের তিনজনের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজ়িটিভ এসেছে। একটি পরিবারের দেওর ও তাঁর বৌদি এবং অন্য পরিবারের এক মহিলা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।  তাঁরা ভর্তি পাঁশকুড়ার বড়মা হাসপাতালে। ওই দুই পরিবারের বাকি পাঁচজনেরও করোনা পরীক্ষা হয়েছিল। তাঁদের রিপোর্ট অবশ্য নেগেটিভ এসেছে। যদিও ওই পাঁচজনের নতুন করে দাসপুর গ্রামীণ হাসপাতালে লালরসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। à§©à§® বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck