চীন সীমান্তে চাপা উত্তেজনা, গোপনে লাদাখে সেনাপ্রধান

24th May 2020 9:13 am বিশ্ব
চীন সীমান্তে চাপা উত্তেজনা, গোপনে লাদাখে সেনাপ্রধান


একদিকে চীন এবং অন্যদিকে নেপাল। দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটছে সীমান্ত লাগোয়া জমির দখল নিয়ে। বস্তুত গত ১৫ দিনে চীন সীমান্তে উত্তেজনা প্রায় চরমে পৌঁছেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই গতকাল হঠাৎ গোপনে ভারতের সেনাপ্রধান এম এম নারাভানে লাদাখের চীন সীমান্ত এবং লে পরিদর্শন করতে যান। সাধারণত ভারতের সেনাপ্রধান কিংবা প্রধানমন্ত্রী দেশের কোনও সীমান্ত অথবা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পরিদর্শনে গেলে, কৌশলগত কারণেই বেশি করে প্রচার করা হয় সরকারি সফর হিসেবে। এর মাধ্যমে সীমান্তবর্তী ভূমিখণ্ডের সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিকে একটা সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া যায়। কিন্তু গতকাল সম্পূর্ণ গোপনেই লে সফর করে ফিরে এসেছেন সেনাপ্রধান। আর সেই কারণেই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। কেন হঠাৎ এই লকডাউনের মধ্যেই স্বল্পসময়ের সফরে সেনাপ্রধান উড়ে গেলেন লাদাখে, তা নিয়ে প্রবল কৌতুহলের সঞ্চার হয়েছে সব মহলে।
সিকিম, লাদাখ, উত্তরাখণ্ড সীমান্ত বরাবর চীন ও নেপালের সক্রিয়তা হঠাৎ করেই উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সিকিম এবং লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনের সেনা জওয়ানদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে সম্প্রতি। আহত হয়েছেন দু’পক্ষের বেশ কিছু সেনা। উত্তেজনা প্রশমন করে স্থানীয়ভাবে আলোচনায় বিষয়টি মিটে গিয়েছে বলে মনে করা হলেও, আদতে কিন্তু তারপর থেকেই লাদাখ সীমান্তজুড়ে চীন তাদের সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে চলেছে। একইভাবে লাদাখ, লে এলাকার যে একাধিক লেক রয়েছে সেখানেও চীনের অংশে টহলদারি নৌকার সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে গিয়েছে। আর চীনের এই অতি সক্রিয়তা দেখেই গত সপ্তাহে ভারতও লাদাখের এয়ারবেসে এয়ারফোর্সের দুটি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।
ভারতের পক্ষ থেকে এই পাল্টা জবাব পেয়েই দু’দিন আগে চীন হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ভারত যেভাবে লাদাখে সক্রিয়তা বাড়িয়েছে, এরপর চীনও তার যোগ্য জবাব দেবে। ওই হুমকির পাল্টা উত্তর দিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রক গতকাল বলেছে, ভারতীয় বাহিনীর স্বাভাবিক টহলদারিকেও চীন অস্বাভাবিক আখ্যা দিচ্ছে, এটা খুবই বিস্ময়কর। ভারত নিজের এলাকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। এই বাদানুবাদ আর বিবৃতির লড়াইয়ের মধ্যেই আবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী লাগাতার ভারতবিরোধী বিবৃতি দিয়ে চলেছেন। উত্তরাখণ্ডের সীমান্তে ভারতের সড়ক নির্মাণ আটকে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে নেপাল। একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে নেপাল সরকার জানিয়েছে, ভারতের মধ্যে থাকা তিনটি অঞ্চল আসলে নেপালেরই। ভারত যেন অবিলম্বে ওই জমি ছেড়ে দেয়। ভারত যথেষ্ট উদ্বিগ্ন নেপালের এই উগ্র আচরণে। এটা স্পষ্ট যে, নেপালকে ইন্ধন দিচ্ছে চীন। আগেও নেপালকে নিজেদের শিবিরে নিয়ে আসতে পরিকাঠামো নির্মাণে হাজার হাজার কোটি টাকার সহায়তা ঘোষণা করেছে বেজিং। কিন্তু নেপাল আগে কখনও এতটা ভারত বিরোধী মনোভাব প্রকাশ করেনি, যা এখন করছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে ভারতের সেনাপ্রধান গতকাল লাদাখ সীমান্তে গিয়ে সেখানে মোতায়েন সেনা রেজিমেন্টের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নর্দার্ন আর্মি কমান্ডারও। ওই বৈঠক নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক কোনও উচ্চবাচ্য করেনি। আর তাই বেড়েছে রহস্য! কী চলছে ভারতের উত্তরতম সীমান্তে?





Others News

আফগানিস্থানের এয়ারপোর্টে শিশুকে ফেলে তালিবানের ভয়ে পালালো মা

আফগানিস্থানের এয়ারপোর্টে শিশুকে ফেলে তালিবানের ভয়ে পালালো মা


News: তুরস্কের সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা আয়লানের স্মৃতি ফিরল আফগানিস্তানের (Afghanistan) বিমানবন্দরে। সেদেশে বিপন্ন শৈশব।কাবুল বিমানবন্দরে একরত্তি একটি শিশুর ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্লাস্টিকের দুধের ট্রেতে শুয়ে কেঁদেই চলেছে শিশুটি। কাছেপিঠে দেখা যাচ্ছে না তার মা-বাবাকে। তালিবানের (Taliban) ভয়ে হয়তো পলাতক তার মা-বাবা। গোটা দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। দেশের মতোই শিশুটির ভবিষ্যতও অনিশ্চিত।

আফগানিস্তানের দখল এখন তালিবান জঙ্গিদের হাতে। দেশের মানুষ প্রাণ বাঁচাতে উঠে পড়েছেন বিমানের ছাদে। উড়ে যাওয়ার সময়ে বিমানের ছাদ থেকে পড়ে মারা গিয়েছেন দু’ জন। এমন ভয়াবহ ছবি দেখে শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্ব। তালিবানরা দেশের দখল নেওয়ার পর থেকেই দেশ ছাড়ার জন্য মরিয়া সাধারণ মানুষ। রাজপথে চলন্ত গাড়ি ছেড়ে দিয়ে বিমানে ওঠার জন্য দৌড়তেও দেখা গিয়েছে অনেককে।

এর মধ্যেই আরও একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার বায়ুসেনার (US military plane) একটি বিমানে ঠাসাঠাসি করে রয়েছেন অসংখ্য আফগান। প্রাণভয়ে দেশ ছাড়ছেন তাঁরা। সেই বিমানে প্রায় ৬৪০ জন যাত্রী উঠে পড়েছে বিমানে। মৃত্যুভয় এতটাই যে করোনাবিধি শিকেয় উঠেছে। তাদের মুখে নেই মাস্ক। আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বিমান ওড়ানোর কোনও ইচ্ছাই ছিল না তাদের। কিন্তু প্রাণভয়ে আফগানরা বিমানে উঠে পড়ায় তাঁদের আর বিমান থেকে নেমে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। যাত্রীবোঝাই বিমানটি উড়ে যায় কাতারের উদ্দেশে। এখনও অনেক মানুষ রয়ে গিয়েছেন আফগানিস্তানে। তাদের পরিণতি কী কেউ জানেন না।


blanck