জেলায় এক দিনেই আক্রান্ত ৬, পরিযায়ীরাই মাথাব্যথা কারন

25th May 2020 7:37 pm পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
জেলায় এক দিনেই আক্রান্ত ৬, পরিযায়ীরাই মাথাব্যথা কারন


উদ্বেগ বাড়াচ্ছেন ভিন্ রাজ্য ফেরত পরিযায়ী শ্রমিকরাই। তাঁদের সূত্রে জেলায় বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

শনিবার এক বৃদ্ধ-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের দু’জনকে পাঁশকুড়া করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রবিবার জেলায় আরও ৬ জন করোনা আক্রান্তের হদিস মিলল। সকলেই পরিযায়ী। ফিরেছেন মহারাষ্ট্র ও দিল্লি থেকে। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, আক্রান্তদের মধ্যে তমলুকের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের এক মহিলা, হলদিয়া পুরসভা এক যুবক, হলদিয়া ব্লকের এক যুবক, এগরা-১ ব্লকের এক কিশোর, পটাশপুর-২ ব্লকের এক যুবক ও পাঁশকুড়া-১ ব্লকের এক ব্যক্তি রয়েছেন। রবিবার এঁদের সকলকেই পাঁশকুড়ার বড়মা করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘‘জেলায় আরও ৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এঁদের সবাই কর্মসূত্রে ভিন্ রাজ্যে থাকতেন। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে নমুনা পরীক্ষা করা হবে।’’

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, তমলুকের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের রঘুনাথপুর ২ পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা করোনমা আক্রান্ত মহিলা স্বামীর কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকতেন। তিনি কিছুদিন আগে বাড়ি ফেরেন। রবিবার তাঁর করোনা রিপোর্ট পজ়িটিভ এসেছে। হলদিয়া পুরসভার ডিঘাসিপুর ও হলদিয়া ব্লকের দেউলপোতা এলাকার দুই যুবকই কর্মসূত্রে মহারাষ্ট্রে একই সঙ্গে থাকতেন। সম্প্রতি গাড়িতে বাড়ি ফেরেন। একই ভাবে পাঁশকুড়ার প্রতাপপুর-২ পঞ্চায়েত এলাকার যে ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, তিনিও কর্মসূত্রে মহারাষ্ট্রে থাকতেন। গত ১৪ মে তিনি পাঁশকুড়ায় ফেরেন।

মহারাষ্ট্র যোগ রয়েছে পটাশপুর-২ ব্লকের বছর বত্রিশের  করোনা সংক্রমিত যুবকেরও। গত ১৭ মে পাঁচ সঙ্গীর সঙ্গে মহারাষ্ট্রের কর্মস্থল থেকে ওই যুবক ট্রেনে খড়্গপুরে আসেন। তারপর এগরায় নিভৃতবাস কেন্দ্রে (কোয়রান্টিন সেন্টার) ছিলেন। এ দিন করোনা রিপোর্ট পজ়িটিভ আসার পরে ওই যুবকের সংস্পর্শে আসা ৫২ জনকে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ২৩ জনকে চণ্ডীপুর করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এগরা-১ ব্লকের যে কিশোর করোনা আক্রান্ত হয়েছে, সে-ও বাবা-মায়ের কর্মসূত্রে মহারাষ্ট্রে থাকত। কয়েকদিন বাবা-মা-ছেলে বাড়ি ফিরেছিলেন। প্রত্যকের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছিল। এ দিন ছেলের রিপোর্ট পজ়িটিভ এসেছে।

করোনা চিকিৎসায় এক সময় সাফল্যের মুখ দেখা এই জেলায় একের পর এক পরিযায়ী আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে। অনেকেই বলছেন, সংক্রমণ ঠেকাতে ভিন্ রাজ্য ফেরতে সকলকে প্রাথমিক ভাবে নিভৃতাবাসে রাখা জরুরি। প্রশাসন অবশ্য তেমন সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ভিন্ রাজ্য ফেরতদের করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা হচ্ছে ধাপে ধাপে।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। ৩৮ বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck