করোনা থেকে বড় বিপদ আসছে

27th May 2020 3:57 pm বিশ্ব
করোনা থেকে বড় বিপদ আসছে


করোনা বা কোভিড-১৯ তো সবে শুরু। আর বড় বিপদ আসছে। পরবর্তী সংক্রামক রোগের হাত থেকে মানবজাতিতে বাঁচাতে হলে এখন থেকে প্রস্তুত হতে হবে। এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন চীনের ‘ব্যাট উওম্যান’ নামে পরিচিত ভাইরাস বিশেষজ্ঞ শি ঝেংলি। তিনি বর্তমানে উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির ডেপুটি ডিরেক্টর। সেই ল্যাবরেটরি, যেখান থেকে করোনার উত্পত্তি বলে অভিযোগ তুলেছে গোটা বিশ্ব। যদিও শি বা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ওয়াং ইয়ানয়ি বারবার তা খারিজ করেছেন। কিন্তু এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যাট উওম্যান। সোমবার চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে শি বলেন, যে করোনা ভাইরাসের এখনও পর্যন্ত দেখা গিয়েছে, তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। পরবর্তী সংক্রামক রোগের মহামারী থেকে মানুষকে বাঁচাতে চাইলে, আমাদের অতি অবশ্যই প্রাকৃতিকভাবে বন্য প্রাণীদের শরীরে থাকা ভাইরাসগুলি সম্পর্কে জানতে হবে। বাকিদেরও আগাম সতর্ক করতে হবে। তা না হলে আরেকটা মহামারী আসবে।

এমন অসংখ্য প্রাণঘাতী সংক্রামক ভাইরাস রুখতে আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও সহযোগিতা প্রয়োজন বলেই মনে করে গবেষক শি ঝেংলি। তাঁর মতে, ভাইরাস নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী এবং সরকারকে স্বচ্ছ এবং একে অপরের সহযোগী হতে হবে। বিজ্ঞান নিয়ে রাজনীতি খুবই দুঃখের বিষয়। সেক্ষেত্রে রোগ নিরাময়ের কাজ অসম্ভব হয়ে পড়ে। কাকতালীয়ভাবে যেদিন বেজিংয়ে চীনের ন্যাশনাল পিপল’স কংগ্রেস শুরু হল সেদিনই এই সাক্ষাত্কার দেন শি। এবারের ন্যাশনাল পিপল’স কংগ্রেসে মূল আলোচনার বিশয় হল করোনা উত্পত্তি নিয়ে চীনের উপর আমেরিকার চাপ। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, উহানের ল্যাবরেটরি থেকেই ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে গত বৃহস্পতিবারই চীনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছেও এর কোনও প্রমাণ নেই। একইভাবে ‘ব্যাট উওম্যান’ শিও জানিয়েছেন, তিনি যে ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করতেন তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে করোনার সংক্রমণের কোনও মিল নেই। তাঁর ল্যাবের সঙ্গে যে এই মহামারীর কোনও যোগ নেই সেকথা সোশ্যাাল মিডিয়াতেও জানিয়েছিলেন তিনি।





Others News

আফগানিস্থানের এয়ারপোর্টে শিশুকে ফেলে তালিবানের ভয়ে পালালো মা

আফগানিস্থানের এয়ারপোর্টে শিশুকে ফেলে তালিবানের ভয়ে পালালো মা


News: তুরস্কের সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা আয়লানের স্মৃতি ফিরল আফগানিস্তানের (Afghanistan) বিমানবন্দরে। সেদেশে বিপন্ন শৈশব।কাবুল বিমানবন্দরে একরত্তি একটি শিশুর ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্লাস্টিকের দুধের ট্রেতে শুয়ে কেঁদেই চলেছে শিশুটি। কাছেপিঠে দেখা যাচ্ছে না তার মা-বাবাকে। তালিবানের (Taliban) ভয়ে হয়তো পলাতক তার মা-বাবা। গোটা দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। দেশের মতোই শিশুটির ভবিষ্যতও অনিশ্চিত।

আফগানিস্তানের দখল এখন তালিবান জঙ্গিদের হাতে। দেশের মানুষ প্রাণ বাঁচাতে উঠে পড়েছেন বিমানের ছাদে। উড়ে যাওয়ার সময়ে বিমানের ছাদ থেকে পড়ে মারা গিয়েছেন দু’ জন। এমন ভয়াবহ ছবি দেখে শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্ব। তালিবানরা দেশের দখল নেওয়ার পর থেকেই দেশ ছাড়ার জন্য মরিয়া সাধারণ মানুষ। রাজপথে চলন্ত গাড়ি ছেড়ে দিয়ে বিমানে ওঠার জন্য দৌড়তেও দেখা গিয়েছে অনেককে।

এর মধ্যেই আরও একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার বায়ুসেনার (US military plane) একটি বিমানে ঠাসাঠাসি করে রয়েছেন অসংখ্য আফগান। প্রাণভয়ে দেশ ছাড়ছেন তাঁরা। সেই বিমানে প্রায় ৬৪০ জন যাত্রী উঠে পড়েছে বিমানে। মৃত্যুভয় এতটাই যে করোনাবিধি শিকেয় উঠেছে। তাদের মুখে নেই মাস্ক। আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বিমান ওড়ানোর কোনও ইচ্ছাই ছিল না তাদের। কিন্তু প্রাণভয়ে আফগানরা বিমানে উঠে পড়ায় তাঁদের আর বিমান থেকে নেমে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। যাত্রীবোঝাই বিমানটি উড়ে যায় কাতারের উদ্দেশে। এখনও অনেক মানুষ রয়ে গিয়েছেন আফগানিস্তানে। তাদের পরিণতি কী কেউ জানেন না।


blanck