পিছিয়ে থাকা প্রকল্পগুলির কাজে গতি আনতে নির্দেশ

27th December 2019 পশ্চিমবঙ্গ
পিছিয়ে থাকা প্রকল্পগুলির কাজে গতি আনতে নির্দেশ


সরকারি কর্মসূচীঃ পিছিয়ে থাকা প্রকল্পগুলির কাজে গতি আনতে বৃহস্পতিবার সিউড়িতে জেলা প্রশাসন বৈঠক করেছে। জেলাশাসকের নেতৃত্বে জেলার সব ব্লকের বিডিওদের নিয়ে বৈঠক করা হয়। এদিন এই বৈঠকে জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা সহ অতিরিক্ত জেলাশাসকরা ছিলেন। এমনকী, জেলার সব ব্লকের বিডিওদের পাশাপাশি অন্যান্য দপ্তরের জেলা আধিকারিকরা ছিলেন। এদিন সকাল ১১টা থেকে রাত পর্যন্ত ওই বৈঠক চলে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০০দিনের প্রকল্পে শ্রমিকদের বেশি করে কাজের সুযোগ দেওয়াই লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তাই ১০০দিনের কাজে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বেশি পরিমাণ শ্রমিককে কাজ দিতে কীভাবে ব্লকগুলিকে অভিযান চালাতে হবে সেনিয়ে জেলা প্রশাসন রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছে। অন্যদিকে, আগামী জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে বোরো চাষের জন্য সেচ দপ্তরের তরফে জল দেওয়া হবে। জেলার বিভিন্ন ক্যানেলের মাধ্যমে জল জমিগুলিতে দেওয়া হবে। তবে, তার আগে সমস্ত ক্যানেলের হাল-হকিকত কী আছে এদিন তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। তাছাড়া যেসব ক্যানেলের অবস্থা বেহাল রয়েছে সেগুলি সংস্কারের জন্য এদিন আলোচনা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে জেলায় কয়েকটি প্রকল্প নেওয়া হবে বলে জেলাশাসক জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ১০০দিনের কাজের সঙ্গে অন্যান্য দপ্তরের সমন্বয় করে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। সেজন্য জেলার অন্যান্য দপ্তরগুলির আধিকারিকদের নিয়েও বৈঠক করা হয়। অন্যদিকে, ব্লকে ব্লকে ছাগল বিলির কাজ জেলায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। সেই কাজে যাতে গতি বাড়ে সেব্যাপারে এদিন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে পোলট্রি ও ছাগল বিলির কাজ আগামী সাতদিনের মধ্যে শেষ করতে হবে বলে এদিনের বৈঠকে বলা হয়। তাছাড়া আগামী দু’মাসের মধ্যে জেলায় একাধিক সেচ দপ্তরের ক্যানেল সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বোরো চাষের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাতে পর্যাপ্ত জল পৌঁছয় সেজন্য ক্যানেলের মজে যাওয়া অংশগুলিকে চিহ্নিতকরণের জন্য বলা হয়েছে। সেই কাজ করে আগামী রবি মরশুমে ধান চাষের সুবিধা করে দিতে পারলে চাষিদের যেমন সুবিধা হবে তেমনই সেখানে এলাকার শ্রমিকরাই ১০০দিনের প্রকল্পে সুযোগ পেয়ে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। এদিনের বৈঠকে সেসব ক্যানেলের পাশাপাশি নদীর বাঁধ মেরামতির কাজের মাধ্যমে জেলায় অতিরিক্ত শ্রমিককে নিযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এদিন বৈঠকে বার্ধক্য, বিধবাভাতা প্রাপকদের অভিযোগ অনুযায়ী জেলার পরিসংখ্যান নেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে যেসব উপভোক্তা ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন তাঁরা যাতে অবিলম্বে তার সুবিধা পান সেব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পঞ্চায়েতগুলিকে দেওয়া চতুর্দশ অর্থ কমিশনের টাকা সময় অনুযায়ী যাতে খরচ করা যায় সেব্যাপারে ব্লকগুলিকে বলা হয়েছে।
জেলাশাসক বলেন, জেলায় বেশি পরিমাণ মানুষকে ১০০দিনের কাজের আওতায় আনার জন্য অন্যান্য দপ্তরগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প নেওয়ার জন্য রূপরেখা করে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ওই প্রকল্পের মাধ্যমে যেমন সম্পদ তৈরি হবে তেমনি শ্রমদিবসও গড়ে উঠবে। সেই লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই ব্লকগুলিকে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। যেসব ব্লকগুলি নানা কাজে পিছিয়ে ছিল তাদের নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে, সার্বিকভাবে সব ব্লকগুলিকেই একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বীরভূমের বিভিন্ন জায়গায় জনশুনানি হয়েছে। এখনও কিছু জায়গায় ওই জনশুনানি করা হবে। সেসব জনশুনানিতে স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিক বিষয়ের উপর অভিযোগ করেছেন। অনেকে নানা দাবিও জানিয়েছেন। সেসব চাহিদাগুলি পূরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্লকগুলি কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে এদিন তা নিয়েও জেলাশাসক আলোচনা করেছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এছাড়া জেলাশাসক বীরভূমের কয়েকটি ব্লকে গিয়ে পঞ্চায়েতস্তরের কাজকর্ম নিয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানে একাধিক কাজকর্ম নিয়ে জেলা প্রশাসন অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের কাজের গতি কতটা বেড়েছে এদিন তাও মূল্যায়ন করা হয়।





Others News

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ


News: জাওয়াদ আসার আগেই পূর্বাভাস অনুযায়ী কলকাতায় বাড়ল দিন ও রাতের তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২৯.à§­ ডিগ্রি যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি বেশী। বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা ছিল à§§à§®.à§§ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশী। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে  হয়েছে ৯৪ শতাংশ। 

জাওয়াদের প্রভাবে শুক্রবার উপকূলের দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলের পর সমুদ্রে উঁচু ঢেউ থাকবে এবং উপকূল এলাকায় ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইবে। 

ধেয়ে আসছে ‘জাওয়াদ’। আগামী শনিবার উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি কোনও জায়গায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। তার জেরে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই যাঁরা মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে গিয়েছেন তাঁদেরও ফিরতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকদেরও ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


blanck