নয়াদিল্লি, ১ জানুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশিরভাগ রাজ্য এখনও তৈরি না হলেও আজ থেকে ‘এক দেশ, এক রেশন কার্ড’ ব্যবস্থা শুরু করে দিল মোদি সরকার। প্রাথমিকভাবে ১২ টি রাজ্যে এটি শুরু হল। ধীরে ধীরে অন্য রাজ্যগুলিকে সহমতে এনে জুন মাসের মধ্যে ‘পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম নেটওয়ার্ক’ (পিডিএসএন) নামে গোটা দেশেই এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, আগে ঠিক ছিল আগামী ১৫ জানুয়ারি এই ব্যবস্থা শুরু হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতো নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে তা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টনমন্ত্রক।
জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গ্রাহকদের সরকার সস্তায় চাল, গম, শস্যদানা দিলেও অনেকে সময়ই কাজের সন্ধানে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া গরিবরা ঠিক মতো রেশন পায় না বলেই কেন্দ্রের রিপোর্ট। তাই অন্য রাজ্যে কাজে গিয়েও কী করে গরিবরা প্রাপ্য সস্তার রেশন পেতে পারেন, তারই উদ্দেশ্যে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান রেশন কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করল মোদি সরকার।
পাইলট প্রকল্প হিসেবে অন্ধ্রপ্রদেশ-তেলেঙ্গানা, গুজরাত-মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা-রাজস্থান এবং কর্ণাটক-কেরলের মতো দুটি পার্শ্ববর্তী রাজ্যের মধ্যে বিষয়টি শুরু হয়। তার সাফল্য দেখেই গোটা দেশে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। উল্লেখিত আটটি রাজ্যের পাশাপাশি গোয়া, মধ্যপ্রদেশ, ত্রিপুরা এবং ঝাড়খণ্ডেও তা চালু হল। এই ব্যবস্থায় এবার উল্লেখিত ১২ টি রাজ্যের যেকোনও গ্রাহক কর্মসূত্রে ওই রাজ্যগুলির যেকোনও জায়গাতেই সুবিধা পাবেন।
যদিও এই ব্যবস্থায় রেশনে খাদ্যসামগ্রীর সেব রাখার সমস্যার পাশাপাশি চাল, গম সংগ্রহ করার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হবে বলেই দাবি করেছেন সারা ভারতের রেশন দোকানদের সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ারপ্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু। তিনি বলেন, প্রতিটি রেশন দোকানে গ্রাহক সংখ্যা নির্দিষ্ট। সেই হিসেব মতোই দোকানদাররা সরকারের থেকে খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় কে কোথায় কবে রেশন তুলবেন, তার হিসেব রাখা সমস্যা হবে। দোকানদার আর্থিকভাবেও মার খাবে বলেও তাঁর অভিযোগ। কেবল রেশন দোকানদাররাই নন। সম্প্রতি সংসদেও ‘এক দেশ এক রেশন কার্ড’ ইস্যুতে সরব হয়েছিল তৃণমূল।