সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে পথে নামা দল ও সংগঠন এবং পাকিস্তানকে এক মেরুতে এনে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী

3rd January 2020 ভারত
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে পথে নামা দল ও সংগঠন এবং পাকিস্তানকে এক মেরুতে এনে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী


বাংলা খবরঃ সেখানে দাঁড়িয়েই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে পথে নামা দল ও সংগঠন এবং পাকিস্তানকে এক মেরুতে এনে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী! কংগ্রেস-সহ বিরোধী শিবিরকে তাঁর ‘পরামর্শ’, ‘‘আন্দোলন করতে হলে পাকিস্তানের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে করুন।’’মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাঁর সরকারের কাজ নিয়ে সব ধরনের বিরোধিতাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ বলে দাগিয়েছে বিজেপি। সিএএ-এনআরসি-র বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে আন্দোলন শুরু হওয়ার পরে গোড়ায় একে শুধুমাত্র ‘মুসলিমদের বিক্ষোভ’ হিসেবেই দেখানোর চেষ্টা করেছিল তারা। কিন্তু ‘সাফল্য’ মেলেনি।এই অবস্থায় আজ মোদী দু’টি কৌশল নিয়েছেন। এক, সিএএ-র বিরোধিতাকে ‘সংসদের বিরোধিতা’ বললেন। সিদ্ধগঙ্গা মঠে তিনি বলেন, ‘‘কংগ্রেস, তাদের সহযোগীরা এবং তাদের তৈরি ইকোসিস্টেম দেশের সংসদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।’’ যা শুনে বিরোধীরা বলছেন, ‘এই আন্দোলন সংসদ নয়, মোদীর বিভাজনকারী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে।’

দ্বিতীয় কৌশলে প্রধানমন্ত্রী সিএএ-এনআরসি-র বিরুদ্ধে আন্দোলনের মুখ ঘোরাতে চেয়ে পাকিস্তানকে টেনে এনে বলেছেন, সে-দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপরে নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিরোধীরা মুখ খুলছেন না কেন? মোদীর এই কৌশলকে বিজেপি-সঙ্ঘের মেরুকরণের চেষ্টা বলেই দেখছে বিরোধীরা। মোদী বলেন, ‘‘আন্দোলন করতে হলে গত ৭০ বছরে পাকিস্তানের কুকীর্তির বিরুদ্ধে করুন। স্লোগান দিতে হলে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের উপরে অত্যাচারের বিরুদ্ধে দিন। মিছিল করতে হলে পাকিস্তানের দলিত-পীড়িত-শোষিতদের সমর্থনে মিছিল করুন।’

মোদীর এমন দাওয়াই নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। তাঁরা বলছেন, মোদী সব সময়েই পাকিস্তানের জুজু দেখান। ভোটের সময়েও, বিক্ষোভেও। তাঁদের কটাক্ষ, মোদী শাসনে কৃষি, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য— সব ক্ষেত্রে সমস্যায় ভুগছে দেশ। আর উনি দেশবাসীকে বলছেন, সে-সব নিয়ে কথা না-বলে পাকিস্তানের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করতে! সিপিএমের পলিটবুরো সদস্য নীলোৎপল বসু বলেন, ‘‘আপনি আচরি ধর্ম...। মোদী নিজে কেন পাকিস্তানের বিষয় নিয়ে আন্দোলন করছেন না? মোদী জমানায় গোটা দেশ যখন সঙ্কটে, তখন প্রতিবেশী দেশের সমস্যা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন করতে বলা নিয়ে ওঁর জ্ঞান কেউ শুনবে না।’’





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck