খিদের জ্বালায় কাঁদছে সন্তানরা, পেট ভরাতে ১৫০ টাকায় মাথার চুল বিক্রি করলেন মা!

11th January 2020 ভারত
খিদের জ্বালায় কাঁদছে সন্তানরা, পেট ভরাতে ১৫০ টাকায় মাথার চুল বিক্রি করলেন মা!


পেটে ভাত নেই। খিদের জ্বালায় অঝোরে কেঁদে চলেছে সন্তানরা। বাধ্য হয়ে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে ১৫০ টাকায় মাথার চুল বিক্রি করে দিলেন মা! অসহায়তার এই করুণ ছবি তামিলনাড়ুর সালেম এলাকার।

তামিলনাড়ুর সালেমের বাসিন্দা প্রেমা। স্বামী ও ৩ সন্তানকে নিয়ে সংসার ছিল তাঁর। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। হঠাৎই প্রেমার স্বামী ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আড়াই লক্ষ টাকা ধার করে ব্যবসা শুরুও করেছিলেন। কিন্তু এক প্রতারকের ফাঁদে পা দিয়ে ধার দেনায় ডুবে যান তিনি। এরপর পাওনাদারদের চাপে কয়েকমাস আগে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন প্রেমার স্বামী। তাঁর মৃত্যুর পর তিন সন্তানকে নিয়ে অথৈ জলে পড়তে হয় ওই মহিলাকে। প্রথম দিকে সন্তানদের নিয়ে কোনওক্রমে চলে গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাদের দায়িত্ব পালন প্রেমার কাছে কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। কী করবে কিনারা না পেয়ে প্রথমে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। কিন্তু কীটনাশক কিনতে গেলে দোকানদার তাঁকে ফিরিয়ে দেন। এরপর ফের আত্মহত্যার চেষ্টা করলে বোনের নজরে পড়ে যাওয়ায় প্রাণ বেঁচে যায় প্রেমার।

পরে শুক্রবার সারাদিন সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছে হাত পাতেন প্রেমা। কিন্তু সাহায্যের হাত বাড়িতে দেননি কেউ। সেই সময় এক ব্যক্তি প্রেমাকে দেখতে পান। পরচুল তৈরির জন্য চুল প্রয়োজন ছিল তাঁর। আর সন্তানদের জন্য টাকার দরকার ছিল প্রেমার। তাই ১৫০ টাকার বিনিময়ে ওই ব্যক্তি মাথার চুল কিনতে চাইতেই রাজি হয়ে যান প্রেমা। চুল বিক্রির টাকায় সন্তানদের হাতে খাবার তুলে দেন তামিলনাড়ুর এই বধূ। তবে গোটা ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতে ইতিমধ্যেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অনেকেই। প্রশাসনের তরফেও ভাতার ব্যবস্থা করা হবে জানা গিয়েছে। এবার হয়তো ভয়ংকর লড়াই থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে, সন্তানদের নিয়ে সেই আশায় প্রেমা।





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck