বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ চড়া গলায় অভিযোগ করেছিলেন, তৃণমূল নেতা-কর্মীরা করোনা ছড়াচ্ছেন। তাঁরা লক ডাউন এবং সামাজিক দূরত্ব বিধির তোয়াক্কা না করে নানা জমায়েতে ঘুরে নিজেরা আক্রান্ত হচ্ছেন এবং অন্যদের মধ্যেও করোনা ছড়াচ্ছেন। দিলীপবাবুর ওই অভিযোগের ন’দিনের মধ্যে রাজ্য বিজেপির অন্দরেও করোনা সংক্রমণ। বিজেপি সাংসদ তথা রাজ্য দলের সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়ের করোনা পজিটিভ হয়েছে শুক্রবার। তিনি নিজেই টুইট করে সে খবর জানিয়েছেন। লকেটের শরীর খারাপ ছিল গত রবিবার থেকে। তিনি প্রথম করোনা পরীক্ষা করান একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরি থেকে এবং রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। জ্বর না কমায় দ্বিতীয় বার তিনি একই পরীক্ষা করান অন্য একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরি থেকে এবং এ দিন রিপোর্ট আসে পজিটিভ। সাংসদের কথায়, ‘‘খুব বেশি অসুস্থ বোধ করছি না। শুধু অল্প জ্বরটাই রয়েছে। তাই এখনও হাসপাতালে যাইনি। বাড়িতেই থাকব, নাকি হাসপাতালে যেতে হবে, সেটা চিকিৎসকরাই স্থির করবেন।’’তার পরে লকেট বলেন, ‘‘আমার জ্বর বেশি ছিল না। ৯৯-এর আশপাশে থাকছিল। কিন্তু কমছিল না। তাই দ্বিতীয় বার পরীক্ষা করাই।’’ বছর দুয়েক আগে হৃদরোগের জন্য লকেটের শরীরে স্টেন্ট বসাতে হয়েছে। সেই কারণে করোনা সংক্রমণ তাঁর পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে বলে মনে করছেন বিজেপি নেতারা। তাই তাঁকে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। লকেটও বলেন, ‘‘আমি ভাবছি, হাসপাতালে গেলেই চিকিৎসা ঠিকমতো হবে।’’ তবে তিনি শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কি না, রাত পর্যন্ত তা জানা যায়নি। বিজেপির উত্তর শহরতলির জেলা সভাপতি কিশোর করও করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।
এ দিন দিলীপবাবু বলেন, ‘‘পার্টি অফিসে নেতারা গেলেই মানুষ ভিড় করেন। তাই আপাতত সকলে বাড়ি থেকে ভিডিয়ো-যোগাযোগ রাখবেন।’’ তিনিও তো গত কয়েক দিন জমায়েতে গিয়েছেন। তিনি কি করোনা পরীক্ষা করাবেন? দিলীপবাবু বলেন, ‘‘আমার করোনা হওয়ার হলে এত দিনেই হত।’’