পশ্চিম মেদিনীপুরে সুস্থতার হার বেশি

8th July 2020 1:26 pm পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
পশ্চিম মেদিনীপুরে সুস্থতার হার বেশি


প্রায় রোজই নতুন করোনা আক্রান্তের হদিস মিলছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। সংক্রমিত হচ্ছেন করোনা-যোদ্ধারাও। শনিবারই যেমন শালবনির করোনা হাসপাতালের এক চিকিৎসক, তিন নার্সের করোনা ধরা পড়েছে।

তবে এই উদ্বেগের মাঝেও আশার আলো সুস্থতার হার। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়েই করোনা রোগীদের সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। জেলায় এখন সুস্থতার হার প্রায় ৮৯ শতাংশ, যা অন্য অনেক জেলার থেকে অনেক বেশি। মৃত্যুর হারও ৩ শতাংশের কম।

করোনা মোকাবিলায় গঠিত জেলাস্তরের টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান তথা জেলাশাসক রশ্মি কমল বলেন, ‘‘নতুন করে কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন ঠিকই, তবে জেলায় করোনা আক্রান্তের সুস্থতার হারও বেশি। হারটা আশাপ্রদই।’’ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিমাইচন্দ্র মণ্ডল জানাচ্ছেন, জেলায় করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। মেদিনীপুর মেডিক্যালের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডুরও মত, ‘‘জেলায় করোনা থেকে দ্রুত সেরে ওঠার হার বেশ আশাব্যঞ্জকই। উদ্বেগের মাঝেও এটা স্বস্তিরই।’’

জেলায় করোনা আক্রান্তদের একটা বড় অংশই পরিযায়ী শ্রমিক। সংক্রমিতদের অনেকেই আবার ছিলেন উপসর্গহীন। তবে জেলা স্বাস্থ্যভবনের এক সূত্র জানাচ্ছে, সার্বিকভাবে এখানে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার অনুপাতও বেশি নয়। শনিবার পর্যন্ত জেলায় ২৮,৪০১ জনের লালারসের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। পজ়িটিভ ৩৪৩ জন। অর্থাৎ, ১.২০ শতাংশ আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। জেলা স্বাস্থ্যভবনের ওই সূত্রের ব্যাখ্যা, জেলায় করোনা সংক্রমণ ছড়ালেও বহু আক্রান্তের শরীরে অজান্তে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যাচ্ছে। ওই সূত্র মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, সম্প্রতি আইসিএমআর-এর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ) এক সমীক্ষাতেও দেখা গিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তত কন্টেনমেন্ট জ়োন বা গণ্ডিবদ্ধ সংক্রমিত এলাকার মানুষদের একটা বড় অংশের শরীরে কোভিড-১৯ প্রতিরোধের ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ওই সূত্রের মতে, এর ফলেই সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যাকে সহজে ছাপিয়ে যেতে পেরেছে করোনা থেকে সেরে ওঠা মানুষের সংখ্যা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও জনগোষ্ঠীর ৬০ শতাংশের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে গেলে ভাইরাস নতুন করে ছড়াতে পারে না। জনগোষ্ঠীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে শুরু করলে কন্টেনমেন্ট এলাকায় নতুন সংক্রমণের হার আরও কমবে। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক সূত্রের দাবি, এখানে এখনও পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর কারণ কো-মর্বিডিটি। জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিক মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘‘জেলায় এমন কয়েকজন রোগীও ছিলেন, যাঁরা আক্রান্ত হওয়ার চার-পাঁচদিনের মাথায় সুস্থ হয়েছেন।’’ জানা যাচ্ছে, করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে আরও কয়েকজনের দিন কয়েকের মধ্যে ছুটি পাওয়ার কথা। জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ‘‘জেলায় করোনায় আক্রান্ত হওয়ার শতাংশও এখন কম। রোজ যত নমুনার পরীক্ষা হচ্ছে, তার মধ্যে নামমাত্রেরই রিপোর্ট পজ়িটিভ আসছে। দ্রুত এই সংখ্যা আরও কমবে।’’





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। ৩৮ বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck