ইছাপুরের বাসিন্দা ওই তরুণের নাম শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তাঁর বাবা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে শুভ্রজিৎ জানিয়েছিলেন, তাঁর খুব দুর্বল লাগছে। শরীরে একটা অস্থিরতাও রয়েছে। তাই শুক্রবার সকালে ছেলেকে নিয়ে কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালে আসেন বাবা-মা। সেখানে জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে রেখে ওই তরুণের সুগার পরীক্ষা করে দেখা যায়, রক্তে শর্করার পরিমাণ প্রায় ৮০০। তখন তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অভিযোগ, ওই বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ক্ষণ বসিয়ে রাখার পরে ওই তরুণ এক বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বার বার অনুরোধ করার পরে রক্ত পরীক্ষা করা হয় শুভ্রজিতের। তাঁর মা বলেন, ‘‘পরীক্ষার পাঁচ মিনিটের মধ্যে বলা হল, ছেলে কোভিড পজ়িটিভ। সেটা কাগজে লিখে দিয়ে এক জন জানালেন, চিকিৎসার জন্য অন্য কোনও বড় হাসপাতালে বা সরকারি হাসপাতালে যেতে হবে।’’
এর পরে শুভ্রজিৎকে ফের কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তাঁকে পাঠানো হয় সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অভিযোগ, সেখানে শয্যা নেই জানিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বাবার আক্ষেপ, ‘‘ছেলেটা একেবারে নেতিয়ে পড়েছিল। একটু অক্সিজেনও কেউ দিলেন না!’’ ফের শুভ্রজিৎকে ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষে দুপুর ২টো নাগাদ ছেলেকে নিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছন বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগ, সেখানে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিনা চিকিৎসায় পড়েছিলেন ওই তরুণ। তখনই ছেলের চিকিৎসা না হলে হাসপাতাল চত্বরেই গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার হুমকি দেন মা-বাবা। তাঁরা জানান, এর পরেই শুভ্রজিৎকে ভর্তি করে অক্সিজেন দেওয়া হয়। বাবা বলেন, ‘‘ভর্তির পরে চিকিৎসকেরা বললেন আমাদের বাড়ি ফিরে যেতে। কিন্তু শনিবার সকালে হাসপাতাল থেকে ফোন করে জানানো হল, শুক্রবার রাতে ছেলে মারা গিয়েছে। ওর নাকি করোনা হয়েছিল।’’