চীনের উহানের ল্যাব থেকেই ছড়িয়েছে ভাইরাস

18th July 2020 11:45 am বিশ্ব
চীনের উহানের ল্যাব থেকেই ছড়িয়েছে ভাইরাস


কোভিড মহামারীর জন্য বরাবরই চীনকে দায়ী করে আসছে আমেরিকা। এবার নিজেদের দাবির সমর্থনে ২০১৮–র একটি ইন্টারনাল কেবল্‌ প্রকাশ করেছে আমেরিকার স্বরাষ্ট্র দপ্তর। সেখানে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে, উহানের গবেষণাগার ‘‌উহান ইন্সটিটিউট অফ ভাইরোলজি’‌–র অদক্ষ এবং অপ্রশিক্ষিত বিজ্ঞানীদের অসাবনতায় ঘটা দুর্ঘটনার ফলেই বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস।
গত এপ্রিলে ওই কেবল্‌–এর যে অংশ লিক হয়েছিল, সেখানে এই তত্ত্ব ছিল। যা নিয়ে বাদানুবাদ চরমে ওঠে আমেরিকায়। মামলাও দায়ের হয়। কিন্তু স্বরাষ্ট্র দপ্তর আদালতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেয়নি। তারপর তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় এপ্রিলে মামলা রুজু করেছিল সংবাদমাধ্যম ‘‌দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’‌। তারপরই এসপ্তাহে পুরো কেবল্‌ প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকার জাতীয় চ্যানেলগুলিতে।
যদিও পুরো কেবল্‌ প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা গিয়েছে, সেখানে যেমন উহান থেকেই ওই ভাইরাস ছড়িয়েছিল কিনা তার নিশ্চিত প্রমাণ নেই। তেমনই সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ারও নির্দিষ্ট তথ্য নেই। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কেন্দ্রের ডিরেক্টর টম ইঙ্গলস্‌বি একথা জানিয়ে বললেন, শুধু দাবি শুনেই কোনও সিদ্ধান্তে আসা অনুচিত। কারণ, তাঁর মতে, ওই তত্ত্বটি ২০১৮ সালে লেখা হয়েছিল। এবং গত দুবছরে গবেষণাগারের পরীক্ষানিরীক্ষায় অনেক বদল ঘটতে পারে। এটা প্রকৃতিগত ভাইরাস এবং চীনা বিজ্ঞানীরা দ্রুত এই উৎস খুঁজে বের করে তা বিশ্ববাসীকে জানাবেন বলেই আশা করছেন টম।
যদিও বর্তমানে বৈজ্ঞানিক মহলে ওই ল্যাবে দুর্ঘটনার ফলেই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার তত্ত্বই জোরাল হচ্ছে। এবং বাদুড়ের উপর গবেষণার তত্ত্ব কোভিড–১৯–এর উপর খাটছে না বলে মনে করছে বৈজ্ঞানিক মহল। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত ওই কেবল্‌–এ একথাও দাবি করা হয়েছে, যে ওই গবেষণাগারে প্রশিক্ষিত বিজ্ঞানীদের অভাব দেখেছিলেন, ২০১৮–à§Ÿ উহান ল্যাব পরিদর্শনে যাওয়া মার্কিন অফিসাররা। কেবল্‌–এ আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চীনা বিজ্ঞানীদের বাদুড়দের শরীর থেকে আলাদা করা সার্সের মতো করোনভাইরাস নিয়ে গবেষণার অনুমতি ছিল। কিন্তু তাঁরা মানবশরীরে সার্স করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছিলেন।   ‌   





Others News

আফগানিস্থানের এয়ারপোর্টে শিশুকে ফেলে তালিবানের ভয়ে পালালো মা

আফগানিস্থানের এয়ারপোর্টে শিশুকে ফেলে তালিবানের ভয়ে পালালো মা


News: তুরস্কের সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা আয়লানের স্মৃতি ফিরল আফগানিস্তানের (Afghanistan) বিমানবন্দরে। সেদেশে বিপন্ন শৈশব।কাবুল বিমানবন্দরে একরত্তি একটি শিশুর ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্লাস্টিকের দুধের ট্রেতে শুয়ে কেঁদেই চলেছে শিশুটি। কাছেপিঠে দেখা যাচ্ছে না তার মা-বাবাকে। তালিবানের (Taliban) ভয়ে হয়তো পলাতক তার মা-বাবা। গোটা দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। দেশের মতোই শিশুটির ভবিষ্যতও অনিশ্চিত।

আফগানিস্তানের দখল এখন তালিবান জঙ্গিদের হাতে। দেশের মানুষ প্রাণ বাঁচাতে উঠে পড়েছেন বিমানের ছাদে। উড়ে যাওয়ার সময়ে বিমানের ছাদ থেকে পড়ে মারা গিয়েছেন দু’ জন। এমন ভয়াবহ ছবি দেখে শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্ব। তালিবানরা দেশের দখল নেওয়ার পর থেকেই দেশ ছাড়ার জন্য মরিয়া সাধারণ মানুষ। রাজপথে চলন্ত গাড়ি ছেড়ে দিয়ে বিমানে ওঠার জন্য দৌড়তেও দেখা গিয়েছে অনেককে।

এর মধ্যেই আরও একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার বায়ুসেনার (US military plane) একটি বিমানে ঠাসাঠাসি করে রয়েছেন অসংখ্য আফগান। প্রাণভয়ে দেশ ছাড়ছেন তাঁরা। সেই বিমানে প্রায় ৬৪০ জন যাত্রী উঠে পড়েছে বিমানে। মৃত্যুভয় এতটাই যে করোনাবিধি শিকেয় উঠেছে। তাদের মুখে নেই মাস্ক। আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বিমান ওড়ানোর কোনও ইচ্ছাই ছিল না তাদের। কিন্তু প্রাণভয়ে আফগানরা বিমানে উঠে পড়ায় তাঁদের আর বিমান থেকে নেমে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। যাত্রীবোঝাই বিমানটি উড়ে যায় কাতারের উদ্দেশে। এখনও অনেক মানুষ রয়ে গিয়েছেন আফগানিস্তানে। তাদের পরিণতি কী কেউ জানেন না।


blanck