পশ্চিম মেদিনীপুরে এক সপ্তাহে ২০০ এর বেশি করোনা আক্রান্ত , বাড়াচ্ছে চিন্তা

20th July 2020 12:11 pm পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
পশ্চিম মেদিনীপুরে এক সপ্তাহে ২০০ এর বেশি করোনা আক্রান্ত , বাড়াচ্ছে চিন্তা


মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় গত এক সপ্তাহে দু’শোরও বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই জেলায় অল্প সময়কালের মধ্যে এত বেশি সংখ্যক সংক্রমণের ঘটনা এর আগে ঘটেনি। জুন মাসের প্রথমদিকে জেলায় মূলত পরিযায়ী শ্রমিকরা আক্রান্ত হচ্ছিলেন। জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে জেলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরার সংখ্যা অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু তারপরেও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন ব্লক প্রশাসনের কর্তা থেকে পুলিসকর্মী, সকলেই আক্রান্তের তালিকায় ঢুকে গিয়েছেন। একই পরিবারে বয়স্ক মানুষজন থেকে শুরু করে দু’বছরের শিশুও আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে জেলাজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। 
স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই জেলায় ৪১১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। মার্চ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত জেলায় এটাই ছিল মোট আক্রান্তের সংখ্যা। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এক ধাক্কায় তা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। à§§à§® জুলাই পর্যন্ত এই জেলায় ৬৩২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ এক সপ্তাহেই আক্রান্ত হয়েছেন ২২১ জন। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষ গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, আগামী দিনে সংক্রামকের সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকলে হাসপাতালে বেড পাওয়াই মুশকিল হয়ে যাবে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিমাইচন্দ্র মণ্ডল অবশ্য বলেন, এখনও জেলায় গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়নি। বাইরে থেকে আসা লোকজনই এখন আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া তাঁদের সংস্পর্শে যাঁরা আসছেন, তাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন। আর আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য জেলাজুড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে বেডের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। 
পরিযায়ী শ্রমিকদের হাত ধরেই এই জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মার্চ মাসের শেষ দিকে জেলায় প্রথম একজন আক্রান্ত হন। তবে, এপ্রিল মাসে আক্রান্তের সংখ্যা খুব বেশি বাড়েনি। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভিনরাজ্য থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক আসতে শুরু করেন। অধিকাংশ শ্রমিকের করোনা পরীক্ষা শুরু হয়। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে শুরু করে। তারপর জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকে। মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা পঞ্চাশের নীচে ছিল। জুন মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটা বেড়ে যায়। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৮ জুন পর্যন্ত জেলায় ৩২২ আক্রান্ত হয়েছিলেন। জুন মাসের প্রথম দিকে আক্রান্তদের অধিকাংশ ছিলেন বাইরে থাকা আসা শ্রমিক। কিন্তু, পরবর্তীকালে শ্রমিক ছাড়াও বহু সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হতে শুরু করায় জুলাই মাসে সংক্রামকের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৪১১ জন আক্রান্তের মধ্যে ৬১ জন অ্যাক্টিভ ছিলেন। বাকি ৩৫০ জন সুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন। à§§à§® জুলাই মোট আক্রান্তের সংখ্যা একধাক্কায় বেড়ে হয় ৬৩২ জন। তারমধ্যে ৪০০ জন সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। জেলায় এখনও ২৩২ জন আক্রান্ত রয়েছেন। 





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। à§©à§® বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck