কাফিল খানের গ্রেপ্তারি বেআইনি - হাইকোর্ট

1st September 2020 4:57 pm ভারত
কাফিল খানের গ্রেপ্তারি বেআইনি - হাইকোর্ট


সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (‌সিএএ)‌–এর বিরোধিতা করে মন্তব্য করেছিলেন। সেজন্য জাতীয় সুরক্ষা আইনে (‌এনএসএ)‌ জেলে পাঠানো হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের চিকিৎসক কাফিল খানকে। এই আটক বেআইনি জানাল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। তাঁকে দ্রুত মুক্তির নির্দেশ দিল আদালত।
গত বছরের শেষে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএএ–র বিরোধিতা করে বক্তৃতা দেন গোরক্ষপুরের এই চিকিৎসক। সেজন্য ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি জামিনে ছাড়া পান। তার দু’‌দিন পরেই এনএসএ–তে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ আনা হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত মথুরা জেলে রয়েছেন তিনি। 
১৩ ডিসেম্বর ওই বক্তৃতার জন্য এফআইআর হয় কাফিল খানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার প্ররোচনা দিয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিভঙ্গ করেছেন। এদিন এলাহাবাদ হাইকোর্ট সেই অভিযোগ মানল না। জানাল, ওঠ্‌ভিযুক্তের পুরো বক্তৃতা পড়ে একবারও মনে হয়নি হিংসায় প্ররোচনা দিয়েছেন তিনি। আলিগড়ের শান্তিভঙ্গের চেষ্টাও তিনি করেননি।’‌ বরং হাইকোর্টের মনে হয়েছে, ‘‌জেলাশাসক বক্তৃতার অংশবিশেষ পড়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন। কথাগুলোর নেপথ্যে থাকা মনের ভাব খেয়াল করেননি।’‌
১৯৮০ সালে এই জাতীয় সুরক্ষা আইন (‌এনএসএ)‌ আনা হয়। এই আইনে যে কোনও ব্যক্তিকে আদালতে চার্জ পেশ না করেই এক বছর পর্যন্ত আটক করতে পারে রাষ্ট্র। যদি রাষ্ট্র মনে করে, কোনও ব্যক্তি জনগণের মধ্যে হিংসা ছড়াচ্ছে, দেশের নিরাপত্তা বা প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বিঘ্নিত করছে, তাহলেই তাঁকে আটক করতে পারে। 
২০১৭ সালে গোরক্ষপুরের সরকারি হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ৬০টি শিশু মারা যায়। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কথা প্রকাশ করে দেন ডা.‌ কাফিল খান। তাঁর বিরুদ্ধেই গাফিলতির অভিযোগ এনে সাসপেন্ড করা হয়। গ্রেপ্তারও করা হয়। গত সেপ্টেম্বরে সমস্ত অভিযোগ থেকে কাফিল খানকে মুক্তি দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। 





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck