নিউজ ডেস্কঃ একদম ছোট থেকে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যেস গড়ে তুলতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়াদের এবার গল্পের বই দেবে রাজ্য সরকার। প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের দেওয়া হবে এই গল্পের বই।
মোবাইলের দৌলতে হারিয়ে যেতে বসেছে বই পড়ার অভ্যেস। কিন্তু কথায় বলে, বইয়ের মতো বন্ধু কেউ হয় না। বই পড়লে অক্ষরের সঙ্গে যেমন যোগাযোগ তৈরি হয়, তেমনি শিশুমনের কল্পনার জগৎও প্রসারিত হয়। নিজের মতো করে ভাবতে শেখার রসদ জোগায় বই। আমাদের লেখাপড়ার পুরো ব্যবস্থাও দাঁড়িয়ে আছে এই বই পড়ার ওপর। সেই বই পড়ার অভ্যেসকেই আরও উৎসাহিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গল্পের ছলে প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিকের পড়ুয়ারা পড়বে সাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞান। বিভিন্ন শ্রেণিতে যা পড়ানো হয়, তার মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হচ্ছে বই। প্রথম শ্রেণিতে যে বইটি দেওয়া হবে তাতে যুক্তাক্ষর থাকবে না। প্রতিটি শ্রেণির বই মানের দিক থেকে আলাদা হবে। বইগুলিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ছোটদের গল্প, রচনা যেমন থাকবে, তেমন থাকবে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরি, সুকুমার রায়, লীলা মজুমদার, প্রেমেন্দ্র মিত্র, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, সত্যজিৎ রায়, শঙ্খ ঘোষ, নবনীতা দেবসেন, সমরেশ মজুমদার, শৈলেন ঘোষ, অজেয় রায় প্রমুখের রচনা। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সমরজিৎ কর, ক্ষিতীন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য, সঙ্কর্ষণ রায়, গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য প্রমুখ। ইতিহাসের ক্ষেত্রে থাকবে সুভাষ মুখোপাধ্যায়, মহাশ্বেতা দেবী, নীহাররঞ্জন রায়ের লেখা। ভূগোলে উপেন্দ্রকিশোর ও সুকুমার রায়ের লেখা।
সব থেকে উল্লেখযোগ্য হল, শুধু বাংলা নয়, ইংরেজি, উর্দু, হিন্দি, নেপালি ও সাঁওতালি ভাষাতেও তৈরি হচ্ছে গল্পের বই। তবে বাংলা বা ইংরেজি থেকে এই ভাষাগুলিতে কিছু অনুবাদ করা হচ্ছে না। উর্দু, হিন্দি, নেপালি, সাঁওতালি ভাষার শিশুসাহিত্যিকের লেখা খুঁজে বার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুরো কাজটির দায়িত্বে রয়েছে সিলেবাস কমিটি। এই কমিটির চেয়ারম্যান অভীক মজুমদার বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে বই পড়ে শেখা ও জানার অভ্যাস গড়ে উঠলে তা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কাজে লাগে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে এ নিয়ে গবেষণা হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে এই গবেষণার সুপারিশগুলি মাথায় রেখে রাজ্যের পড়ুয়াদের জন্য কিছু করা যায় কিনা দেখতে বলেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। সেইমতো গল্পের বই বা গ্রেডেড রিডিং মেটিরিয়াল তৈরি করা হচ্ছে।’ পড়ুয়াদের ওপর চাপ তৈরি করতে নয়, শিশু বয়সে নানা ধরনের কাহিনি, রূপকথা, কল্প বা ভ্রমণকাহিনি পড়ার যে প্রবণতা দেখা যায় সেটাকে উৎসাহিত করাই লক্ষ্য। মুখস্থ করে উগড়ে দেওয়া নয়, ছাত্রছাত্রীরা যাতে বইটি আনন্দের সঙ্গে পড়ে, এবং নতুন তথ্য জানতে পারে সেভাবেই তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান অভীকবাবু। মার্চের মধ্যে বই তৈরির পুরো কাজটি শেষ করে ফেলা হবে জানান তিনি। আপাতত সহায়ক বই হিসেবে দেওয়া হবে। মূল্যায়নের কথা এখনও ভাবা হয়নি। তবে রুটিনে গল্পের ক্লাস রেখে বইটি পড়ানো এবং এখান থেকে রিডিং পড়া এবং মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া যায় কি না তা ভাবা হচ্ছে।