এনপিআর থেকে বাদ দিতে হবে বাবা মায়ের জন্মস্থান-তারিখ, দাবি মমতার

21st January 2020 পশ্চিমবঙ্গ
 এনপিআর থেকে বাদ দিতে হবে বাবা মায়ের জন্মস্থান-তারিখ, দাবি মমতার


 নিউজ ডেস্কঃ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং এনআরসি’র কেন তিনি বিরোধিতা করছেন, সে ব্যাখ্যা আগেই দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এখানে উত্তরবঙ্গ উৎসবের মঞ্চ থেকে স্পষ্ট করে দিলেন, কেন ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার (এনপিআর) নিয়ে কেন্দ্রের অবস্থানের পাল্টা মেরুতে রয়েছেন তিনি। এখানে এনপিআর হবে না, এই ঘোষণা সরকারি তরফে আগেই হয়েছে রাজ্যে। তা নিয়ে কেন্দ্রের ডাকা দিল্লির বৈঠকে গরহাজির থেকে এই ইস্যুতে নিজের অবস্থান কী, তার বার্তাও দিয়েছিলেন মমতা। তবে এদিনই প্রথম তার কারণ ব্যাখ্যা করে সিএএ, এনসিআর-এর সঙ্গেই এনপিআর’কেও একই সারিতে নিয়ে এসেছেন তিনি। জনতাকে বোঝালেন, সিএএ এবং এনসিআর-এর মতোই এনপিআর’ও সাধারণ নাগরিকদের স্বার্থবিরোধী।
শিলিগুড়ির আঠেরোখাইতে উত্তরবঙ্গ উৎসবের সূচনা করে উদ্বোধনী ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভেবেছিলাম, এনপিআর জনসুমারি (সেন্সাস) সংক্রান্ত একটা প্রক্রিয়া। কিন্তু দেখলাম, সাঙ্ঘাতিক একটা কলাম রয়েছে সেখানে। যেখানে জানতে চাওয়া হচ্ছে, বাবা-মা’র জন্মস্থান কোথায়? কী তাঁদের জন্মতারিখ? মমতার খেদোক্তি, কতজন এই তথ্য বলতে পারবেন, দিতে পারবেন? আমি তো পারব না। কোথায় পাব কাগজপত্র? কতজনই বা জোগাড় করতে পারবেন? তা বলে কি তাঁরা দেশের নাগরিক নন? তৃণমূল সুপ্রিমোর কথায়, যে বা যাঁরা এনপিআর বৈঠকে গিয়েছিলেন, সেই অবিজেপি রাজ্যগুলিকে বলছি, আবার ভাবুন, প্রতিবাদ করুন। বিজেপি এখন বলছে, এনপিআর-এ বাবা-মা’র জন্মস্থান ও জন্মতারিখ সংক্রান্ত কলামটি বাধ্যতামূলক নয়। যদি তা না-ই হয়, তবে এখনও সেটা রেখেছ কেন? এরপরই মমতা বলেন, পাঁচটা-সাতটা বিষয়ের নম্বর নিয়ে মার্কশিট সম্পূর্ণ হয়। মার্কশিটে যদি একটি বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বরের কোনও উল্লেখ না থাকে, সেটা তো অসম্পূর্ণ, ইনকমপ্লিট! তাঁর আশঙ্কা, এনপিআর-এর ক্ষেত্রেও তাই হবে। বাবা-মা’র জন্মস্থান আর জন্মতারিখ সংক্রান্ত কলাম অসম্পূর্ণ থাকলে, সংশ্লিষ্ট নাগরিককে রাখা হবে সন্দেহের তালিকায়। তাঁর দাবি, যদি কোনও গুরুত্বই না থাকে, তবে প্রত্যাহার কর ওই কলাম। একমাত্র তাহলেই আমি বুঝব। তার আগে যে খুশি বোঝে বুঝুক, আমি বুঝব না।
সিএএ, এনআরসি ইস্যুতে মমতার ধারাবাহিক আন্দোলনকে সমর্থন করে বিবৃতি এসেছে অবিজেপি বিভিন্ন দলের তরফে। এমনকী সাহচর্যের অঙ্গীকার করেছেন বেশ কয়েকজন সর্বভারতীয় নেতা-নেত্রী। বিজেপি-বিরোধী এই আবর্তে সিপিএম পরিচালিত কেরল সরকার এনপিআর করা হবে না বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করে মমতার পথেই হাঁটতে শুরু করে। কিন্তু এনপিআর বৈঠকে প্রতিনিধি পাঠায় তারা। উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস পরিচালিত বেশ কয়েকটি রাজ্যের প্রতিনিধিও। সেই প্রসঙ্গে কারও নাম না করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, অনেকে অনেক কথা বললেন, আবার মিটিংয়ে চলেও গেলেন। সবাই গেলেও, আমি যাইনি। যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে। একাই প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। মমতার দৃপ্ত বার্তা, বাংলার মানুষকে একটাই কথা বলতে চাই। আমি শুধু ভোটের সময়ের পাহারাদার নই। আমি ৩৬৫ দিনই পুরো ২৪ ঘণ্টার পাহারাদার। আমি থাকতে, আপনাদের কেউ ছুঁতে পারবে না।





Others News

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ


News: জাওয়াদ আসার আগেই পূর্বাভাস অনুযায়ী কলকাতায় বাড়ল দিন ও রাতের তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২৯.৭ ডিগ্রি যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি বেশী। বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা ছিল ১৮.১ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশী। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে  হয়েছে ৯৪ শতাংশ। 

জাওয়াদের প্রভাবে শুক্রবার উপকূলের দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলের পর সমুদ্রে উঁচু ঢেউ থাকবে এবং উপকূল এলাকায় ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইবে। 

ধেয়ে আসছে ‘জাওয়াদ’। আগামী শনিবার উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি কোনও জায়গায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। তার জেরে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই যাঁরা মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে গিয়েছেন তাঁদেরও ফিরতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকদেরও ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


blanck