বিশ্বে গণতন্ত্র রক্ষার সূচকে ১০ ধাপ নেমে ভারত ৫১ নম্বরে

23rd January 2020 ভারত
বিশ্বে গণতন্ত্র রক্ষার সূচকে ১০ ধাপ নেমে ভারত ৫১ নম্বরে


নিউজ ডেস্কঃ জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর জারি হওয়া বিধিনিষেধ এবং অসমে এনআরসি চালু —দু’টি ক্ষেত্রেই ধাক্কা খেয়েছে ভারতের গণতান্ত্রিক পরিবেশ। বিরোধীদের এই অভিযোগকে কেন্দ্রীয় সরকার গুরুত্ব না দিলেও দেশের ভাবমূর্তিতে তার প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংস্থা দি ইকনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। তাদের সমীক্ষায় বিশ্ব গণতান্ত্রিক সূচকে ১০ ধাপ নেমে গেল ভারত। এই মুহূর্তে ভারতের অবস্থান ৫১ নম্বরে। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যে মোদি সরকারের কাছে যা বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতি বছরই বিশ্বের ১৬৫টি স্বাধীন দেশ ও দু’টি অঞ্চলের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে সমীক্ষা চালায় দি ইকনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। মূলত প্রতিটি দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া, সরকারের শাসনব্যবস্থা, রাজনৈতিক দল ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে সমীক্ষাটি করা হয়েছে। ওই সমীক্ষায় গতবারের তুলনায় গণতন্ত্র রক্ষা করার সূচকে এবার ১০ ধাপ নীচে নেমে গিয়েছে ভারত। ০-১০ স্কোরের মধ্যে ২০১৮ সালে ভারত পেয়েছিল ৭.২৩। কিন্তু ২০১৯ সালে ভারতের স্কোর নেমে গিয়েছে ৬.৯০-তে। এশিয়া মহাদেশের দেশগুলির মধ্যে মালয়েশিয়া, তাইওয়ানের থেকেও পিছিয়ে রয়েছে ভারত। ২০১৯ সালে এশিয়া মহাদেশের দেশগুলির গণতন্ত্র ‘টালমাটাল’ ছিল বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গণতন্ত্রের মানদণ্ডে ভারতের সূচক ১০ ধাপ নীচে নেমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ৩৭০ ধারা অবলুপ্ত করা এবং এনআরসি প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সংবিধানের ৩৫এ ধারা তুলে নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরে অন্য রাজ্যের মানুষের জমি কেনার অধিকার দেওয়া হয়েছে। গত বছর ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দাদের উপর নানাভাবে বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে। বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন এবং দীর্ঘদিন মোবাইল সংযোগ ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেখানকার রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দি করে রাখা রয়েছে। এই সমস্ত কারণে সেখানকার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলে সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়েছে। অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ১৯ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম। ভারতের সূচক নীচে নামার জন্য এনআরসিকেও দায়ী করা হয়েছে। এনআরসি আতঙ্কের মধ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) চালু করার প্রতিবাদে গোটা দেশে বিক্ষোভ চলছে। যে কারণে নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে ভারতের গণতান্ত্রিক পরিবেশ।
সমীক্ষাতে আরও বলা হয়েছে, ভারতে যে হারে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে, আগামী দিনে সেই হারে বাড়তে থাকলে ২০৬০ সালের মধ্যে বিশ্বে সবথেকে বেশি মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করবে ভারতে। বিশ্বে গণতন্ত্র রক্ষার সূচকে সবার প্রথমে রয়েছে নরওয়ে (৯.৮৭) এবং সবার শেষে উত্তর কোরিয়া (১.০৮)। চীন ১৫৩, পাকিস্তান ১০৪, শ্রীলঙ্কা ৬৯ এবং বাংলাদেশ রয়েছে ৮০ নম্বরে।





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck