করোনা: নেপাল-বাংলার তিন সীমান্তে সতর্কতা জারি

26th January 2020 ভারত
করোনা: নেপাল-বাংলার তিন সীমান্তে সতর্কতা জারি


কলকাতা: নেপালে করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মেলায় রাজ্যের বাংলা-নেপাল সংযোগকারী সবক’টি সীমানায় সতর্কতা জারি করল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। বাংলা-নেপাল সীমানার পানিট্যাঙ্কি, মিরিক এবং পশুপতি বাজার দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকা মানুষজনের ক্ষেত্রে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনিবার রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তী এই মর্মে ছ’টি বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ নিতে বলে দার্জিলিং-এর মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে চিঠি পাঠিয়েছেন। বলেছেন,  তিনটি সীমানাতেই ২৪ ঘণ্টার জন্য প্যারামেডিক্যাল টিম রাখতে হবে।  নেপাল-বাংলা সীমানা দিয়ে ভারতে আসা মানুষজনদের নিজে থেকেই রোগের উপসর্গের কথা জানাতে প্রচার করতে হবে। কাদের ক্ষেত্রে এইভাবে রোগের কথা জানাতে হবে, তাও জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা। নির্দেশনামায় তিনি বলেছেন, গত এক মাসের মধ্যে চীন ফেরত যেসব মানুষের জ্বর এবং কাশি হয়েছে, তাঁদের তথ্য জানতে হবে।  প্যারামেডিক্যাল টিম এইসব মানুষকে সহযোগিতা করবে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করবে।  উপসর্গ থাকা মানুষকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে করোনার জন্য তৈরি হওয়া আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করতে হবে।  এ নিয়ে স্থানীয় ভাষায় ব্যাপক প্রচার করতে হবে।  মাইকে করে প্রচারও করতে হবে।
এদিকে করোনা নিয়ে রাজ্যকে পাঠানো কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অ্যাডভাইসারি’তে বলা হয়েছে, সাধারণ ঠান্ডা লাগার পিছনেও থাকে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী এই ভাইরাস। কেন্দ্র জানিয়েছে, আসলে করোনা হল এক ধরনের ভাইরাসের গোত্র বা পরিবার। সেই পরিবারের কিছু কিছু ভাইরাস একেবারেই সাধারণ জ্বর-সর্দি-কাশি বা ‘কমন কোল্ড’ ছড়ায়। আবার এই ভাইরাস পরিবারেই কিছু কিছু ভাইরাস মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রম (মার্স) এবং সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রম বা সার্স-এর মতো বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী রোগ ছড়াতে পারে। তাই করোনাকে কোনওভাবেই অবহেলা নয়। সঙ্গে আজকের পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)’র পরামর্শবলিও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যভবনে।
হু জানিয়েছে, তীব্র শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশির উপসর্গ নিয়ে যদি কোনও রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং কোনওভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থার তেমন যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা না দেওয়া যায়, তখন সেই রোগীর দিকে নজর দেওয়া উচিত। এর সঙ্গে কতগুলি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন,  সেই রোগী যদি উপসর্গ দেখা দেওয়ার ১৪ দিন আগে চীনের ইউয়ান বা হুবেই প্রদেশে গিয়ে থাকেন  মানুষটির বিমানযাত্রার ইতিহাস না থাকলেও যেসব হাসপাতালে তীব্র শ্বাসকষ্ট বা সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন-এর চিকিৎসা চলে, সেখানে কাজ করলে  যাবতীয় চিকিৎসার পরও কোনও রোগীর শারীরিক অবস্থার অস্বাভাবিক অবনতি হলেও সেই রোগীকে নজরে রাখতে হবে।
এছাড়াও যাঁদের তীব্র শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছে, সেইসব রোগীর ক্ষেত্রে  উপসর্গ দেখা দেওয়ার ১৪ দিন আগে ‘নভেল করোনা ভাইরাস’ আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা  যে হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগী আছে, সেখানে ভর্তি হলে  কোনও দেশে প্রাণী থেকে মানুষে বা প্রাণীদের মধ্যে করোনা ছড়ালে এবং সেখানে কোনও মানুষ যদি প্রাণীদের সংস্পর্শে আসে, তাহলেও সতর্ক থাকতে হবে।
এ বিষয়ে শুক্রবার বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন প্রধান ডাঃ অপূর্ব মুখোপাধ্যায় বলেন, আসলে যে করোনা ভাইরাসের জন্য ঠান্ডা লাগে, সর্দি-কাশি-নাক থেকে জল পড়ার মতো ঘটনা ঘটে, তার সঙ্গে যে করোনা ভাইরাসের জন্য সার্স বা মার্স হয়—এই দুইয়ের সম্পর্কটা অনেকটা জ্ঞাতিগোষ্ঠীর মতো, আত্মীয়ের মতো। তাই সতর্ক তো থাকতে হবে। তাছাড়া এখন চাকরি-গবেষণা ইত্যাদি বিভিন্ন কাজে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া এত বেড়েছে, একবার সংক্রমণ শুরু হলে, ছড়াতে বেশি সময় লাগে না। বিশেষ করে ভারতের মতো দেশে জনঘনত্ব এত বেশি, রোগ সংক্রামিত হতে দেরি হয় না।





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck