কার্টুন বিতর্ক ইসলামিক দেশেকে ভয় পেল ফ্রান্স

29th October 2020 3:17 pm বিশ্ব
কার্টুন বিতর্ক ইসলামিক দেশেকে ভয় পেল ফ্রান্স


প্যারিস: হজরত মহম্মদের কার্টুন বিতর্কে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতি ও মুসলিম বিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ উঠল। প্রতিবাদ শুরু হয়েছে একের পর এক মুসলিম প্রধান দেশে। প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়ায় মুসলিম দেশগুলিতে বসবাসকারী ফরাসি নাগরিকদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিল ফ্রান্স।
বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকায় হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রতিবাদ জানাতে তেহরানে নিযুক্ত ফ্রান্সের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে ইরান। প্রতিবাদ শুরু হয়েছে পাকিস্তানেও। মুসলিম দুনিয়ার বিভিন্ন অংশে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফরাসি পণ্য বয়কটের ডাক উঠেছে। কার্টুনের নিন্দা করেছে সৌদি আরব। বিতর্কের সূত্রপাত গত ১৬ অক্টোবর। পড়ুয়াদের হজরত মহম্মদের কার্টুন দেখানোয় ফ্রান্সে স্যামুয়েল প্যাটি নামে এক শিক্ষককে গলা কেটে খুন করা হয়। হামলাকারী ছিল এক চেচেন বংশোদ্ভূত। শিক্ষককে গলা কেটে খুনের এই ঘটনাকে ফরাসি সরকার বাক স্বাধীনতার উপর হামলা বলে মন্তব্য করে। কার্টুন প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষেই সওয়াল করে ম্যাক্রঁ সরকার। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ ওই শিক্ষককে ‘নায়ক’ বলে মন্তব্য করেন। এই অবস্থায় মুসলিম দেশগুলিতে প্রতিবাদ শুরু হওয়ায় মঙ্গলবার ফ্রান্সের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করে ফরাসি বিদেশ মন্ত্রক। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর কঠোর অবস্থান নিয়ে মুসলিম দুনিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। হামলার ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘ইসলামিক বিচ্ছিন্নতাবাদ’ ও ‘ইসলামিক সন্ত্রাসবাদী হামলা’র মতো শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন তিনি। ফরাসি প্রেসিডেন্টের এইসব মন্তব্যের ব্যাপক প্রতিবাদ হচ্ছে মুসলিম দেশগুলিতে। তবে ভারতে আবার মঙ্গলবার থেকে ঠিক এর উল্টো প্রবণতা তৈরি হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভারতে ‘আই স্ট্যান্ড উইথ ফ্রান্স’ নামে একটি হ্যাশট্যাগ ট্যুইটারে ট্রেন্ডিং হয়ে পড়েছে।





Others News

আফগানিস্থানের এয়ারপোর্টে শিশুকে ফেলে তালিবানের ভয়ে পালালো মা

আফগানিস্থানের এয়ারপোর্টে শিশুকে ফেলে তালিবানের ভয়ে পালালো মা


News: তুরস্কের সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা আয়লানের স্মৃতি ফিরল আফগানিস্তানের (Afghanistan) বিমানবন্দরে। সেদেশে বিপন্ন শৈশব।কাবুল বিমানবন্দরে একরত্তি একটি শিশুর ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্লাস্টিকের দুধের ট্রেতে শুয়ে কেঁদেই চলেছে শিশুটি। কাছেপিঠে দেখা যাচ্ছে না তার মা-বাবাকে। তালিবানের (Taliban) ভয়ে হয়তো পলাতক তার মা-বাবা। গোটা দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। দেশের মতোই শিশুটির ভবিষ্যতও অনিশ্চিত।

আফগানিস্তানের দখল এখন তালিবান জঙ্গিদের হাতে। দেশের মানুষ প্রাণ বাঁচাতে উঠে পড়েছেন বিমানের ছাদে। উড়ে যাওয়ার সময়ে বিমানের ছাদ থেকে পড়ে মারা গিয়েছেন দু’ জন। এমন ভয়াবহ ছবি দেখে শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্ব। তালিবানরা দেশের দখল নেওয়ার পর থেকেই দেশ ছাড়ার জন্য মরিয়া সাধারণ মানুষ। রাজপথে চলন্ত গাড়ি ছেড়ে দিয়ে বিমানে ওঠার জন্য দৌড়তেও দেখা গিয়েছে অনেককে।

এর মধ্যেই আরও একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার বায়ুসেনার (US military plane) একটি বিমানে ঠাসাঠাসি করে রয়েছেন অসংখ্য আফগান। প্রাণভয়ে দেশ ছাড়ছেন তাঁরা। সেই বিমানে প্রায় ৬৪০ জন যাত্রী উঠে পড়েছে বিমানে। মৃত্যুভয় এতটাই যে করোনাবিধি শিকেয় উঠেছে। তাদের মুখে নেই মাস্ক। আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বিমান ওড়ানোর কোনও ইচ্ছাই ছিল না তাদের। কিন্তু প্রাণভয়ে আফগানরা বিমানে উঠে পড়ায় তাঁদের আর বিমান থেকে নেমে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। যাত্রীবোঝাই বিমানটি উড়ে যায় কাতারের উদ্দেশে। এখনও অনেক মানুষ রয়ে গিয়েছেন আফগানিস্তানে। তাদের পরিণতি কী কেউ জানেন না।


blanck