কলকাতা: শিক্ষকদের নিজের জেলায় পোস্টিং দিতে নিয়োগ এবং বদলি প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বুধবার নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করার সময় একথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি যা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাতে প্রথম নিয়োগের ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া আর থাকছে না। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া যেমন দ্রুত হবে, তেমনই প্রবীণ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিজের জেলার পোস্টিং দেওয়াও সহজ হবে। মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার ট্যুইট করে শিক্ষকদের নিজের জেলায় পোস্টিং দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তারপরেই শুরু হয়েছে উদ্যোগ।
পার্থবাবু জানান, তিনি ইতিমধ্যেই শিক্ষাদপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে ক’জন শিক্ষক রয়েছেন, তার তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছেন। সেই মর্মে বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে বলে পার্থবাবু জানান। কর্মরত শিক্ষকরা কোন জেলায় থাকেন, আর কোন জেলায় চাকরি করছেন, সেই তথ্যও নেওয়া হচ্ছে। পার্থবাবু স্বীকার করেন, এটা কার্যকর করতে গিয়ে বেশ কিছু সমস্যা হতে পারে। তাই নিয়ম-নীতিই পাল্টে ফেলা হচ্ছে। পরবর্তী নিয়োগও সেই নিয়মে হবে। পার্থবাবু বলেন, এটা আমরা বরাবর বলে আসছিলাম। বর্তমান আইন অনুযায়ীই বিশেষ করে শিক্ষিকাদের যতটা সম্ভব কাছাকাছি বদলি করার চেষ্টা করেছি। যাতায়াতেই যদি সব সময় চলে যায়, তাহলে তাঁরা কী পড়াবেন? সংসার হলে সেখানেও সময় দিতে হয়। দূরে কর্মক্ষেত্রে হওয়ায় সেটা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না।
বদলি পেতে ইচ্ছুক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বক্তব্য ছিল, এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ এবং প্রবীণদেরই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। কিন্তু নতুন নিয়োগের জন্য সব শূন্যপদ সরকার ধরে রাখে। যার ফলে, পরীক্ষা দিয়েই চাকরি করতে এসে কাছাকাছি পোস্টিং পেয়ে যান নবীনরা। তাঁদের পোস্টিং দিয়ে কোনও শূন্যপদ তৈরি হলে সেটায় বদলির সুযোগ পান কর্মরত শিক্ষকরা। এই নিয়মটা নিয়েই তাঁদের আপত্তি ছিল। অনেকেরই বক্তব্য, সরকারি চিকিৎসকরা তো চাকরির প্রথমে আবশ্যিকভাবে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পোস্টিং পান। তিন বছর সেখানে কাজ করতেই হয়। পরে তাঁরা পছন্দসই জায়গায় আসতে পারেন। শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও তাই হোক। প্রবীণদের বদলির সুযোগ দিয়ে তারপর নতুন পদে নিয়োগ করা হোক। প্রসঙ্গত, বদলির সুযোগ দেওয়ার জন্যই অনেক ডিআই শূন্যপদ গোপন করে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। এগুলিকে চালু কথায় সাপ্রেসড ভেকেন্সি বলা হয়। সেটা কিন্তু নিয়মবিরুদ্ধ। এটা নিয়ে প্রচুর টাকার খেলা চলে বলেও অভিযোগ। তবে, বদলিকে অগ্রাধিকার দিলে আর সাপ্রেসড ভেকেন্সি থাকবে না। আর্থিক দুর্নীতির অবকাশও কমবে। তবে, কাউন্সেলিং বন্ধ হয়ে গেলে আইনি জটিলতা হতে পারে বলেও কোনও কোনও আধিকারিক মনে করছেন। তবে অনেকের মতেই, জেনারেল ট্রান্সফার স্বচ্ছভাবে চালু হলে সমস্যার অর্ধেক সমাধানই হয়ে যাবে। সেটা রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রেখেছে। বিশেষ বদলি চালু রয়েছে। তাও আবেদনকারীরা দীর্ঘদিন প্রতীক্ষায় রয়েছেন। পরে আবেদন করেও অজ্ঞাত কারণে অনেকের অর্ডার বেরিয়ে যাচ্ছে। এসব দুর্নীতি বন্ধ করে প্রকৃত ভুক্তভোগীকে কাছাকাছি বদলির সুযোগ দেওয়া হোক বলেও সরকারের কাছে দাবি শিক্ষকদের।