বাসন্তী মণ্ডল ৭২ বছর বয়সে শুরু করলেন পড়াশুনা

31st January 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
বাসন্তী মণ্ডল ৭২ বছর বয়সে শুরু করলেন পড়াশুনা


কথায় আছে শিক্ষার কোনও বয়স হয় না ৷ যে কোনও বয়সেই মানুষ শিক্ষার আলো দেখতে পারে ৷ এবারে সেই কথারই বাস্তব রূপ দেখা গেল মেদিনীপুর শহরের বিধাননগর মাঠে ৷ হাতেখড়ি হল 72 বছরের বৃদ্ধা বাসন্তী মণ্ডলের ৷
আদতে কাঁথি এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে তিনি মেদিনীপুরের ঝরনাডাঙায় বোনের বাড়িতে থাকেন ৷ ছোটোতেই মা-বাবাকে হারিয়েছেন ৷ জোটেনি সামান্য শিক্ষাটুকুও ৷ লোকের বাড়িতে কাজ করেই দিন কাটান বাসন্তীদেবী ৷

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লোকের বাড়িতে কখনও মাসন মাজা, কখনও জামা কাপড় কেচে দেওয়া বা কখনও বাচ্চা দেখভালের কাজ করেন তিনি ৷ মাসের শেষে যখন মাইনে পান, তখন ব্যাঙ্কে সেই টাকা রাখতে বা তুলতে গেলে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় ৷
বহুদিন ধরেই চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু সুরাহা মেলেনি এই সমস্যা থেকে ৷ শিক্ষার আলো দেখার ইচ্ছে হলেও পাশে পাননি কাউকে ৷ তবে, এবারে যেন তাঁর জীবন আলোময় হয়ে ওঠার পালা ৷ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাঁর হাতেখড়ির ব্যবস্থা করে দেন ৷

বাগদেবীর আরাধনার পরই হাতেখড়ি হল বাসন্তীদেবীর৷ এই বয়সে এসে হাতেখড়ি হওয়াতে খুশি বাসন্তীদেবী নিজেও ৷ তিনি বলেন, ''এবারে দেখি লেখা-পড়া শিখে কিছু করতে পারি কি না ৷'' অপরদিকে, বাসন্তীদেবীকে হাতেখড়ি দিতে পেরে খুশি এলাকার মানুষ ও সংস্থার সদস্যরাও৷





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। ৩৮ বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck