বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত ২০ লক্ষ চাষিকে ৫৫০ কোটি টাকার চেক বিলি করল রাজ্য

31st January 2020 পশ্চিমবঙ্গ
বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত ২০ লক্ষ চাষিকে ৫৫০ কোটি টাকার চেক বিলি করল রাজ্য


কলকাতা: à¦˜à§‚র্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে ফের কেন্দ্র-রাজ্য দ্বৈরথ সামনে এল। রাজ্য সরকারের দাবি, নভেম্বরের গোড়ায় হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজ্যের ছ’টি জেলা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। সেই প্রেক্ষিতে মোদি সরকারের কাছে à§§,২৪৩ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত এক টাকাও পাঠায়নি কেন্দ্র। কিন্তু বাংলার কয়েক লক্ষ দুর্গত মানুষের কথা ভেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নিজস্ব তহবিল (স্টেট ডিজাস্টার রিলিফ ফান্ড) থেকে ইতিমধ্যেই ৫৫০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। দুর্গত ওই ছয় জেলার প্রায় ২০ লক্ষ চাষির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই ওই টাকা ঢুকে গিয়েছে। কৃষি দপ্তর সূত্রের দাবি, চেক বিলির কাজ চলছে। চলতি অর্থবর্ষের শেষে সাহায্যপ্রাপ্ত চাষির সংখ্যা ২১ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, রাজ্য সরকারের দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। দিল্লির বিশেষ টিম দুর্গত এলাকায় গিয়ে যাবতীয় তথ্য জোগাড় করেছে। দিল্লির তরফে আরও জানানো হয়েছে, স্টেট ডিজাস্টার রিলিফ ফান্ড থেকে যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তার একটা বড় অংশ কেন্দ্রীয় সরকার দেয়। স্বভাবতই মোদি সরকার কোনও ক্ষতিপূরণ দেয়নি, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।
নবান্ন সূত্রের দাবি, গত নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়েছিল। যার জেরে দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, হাওড়া এবং হুগলি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিশেষ করে চাষের কাজে এই ঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল। কয়েকশো কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল সব মিলিয়ে। তার ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন। সেই সূত্রে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে কৃষি দপ্তরের তরফে বিশেষ ক্যাম্প করা হয়েছিল। যা গত ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আবেদনের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ বাবদ রাজ্য সরকার ৫৫০ কোটি টাকার বেশি দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে কৃষি দপ্তরের এক আমলা বলেন, ছটি জেলায় সব মিলিয়ে ১২৪টি ক্যাম্প করা হয়েছিল। এক্ষেত্রে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ক্ষতিপূরণের টাকা চেকের মাধ্যমে বিলি করা হবে। সেক্ষেত্রে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে ক্ষতিপূরণের জন্য লিখিত আবেদন করতে হয়েছে।
নবান্নের এক আমলার অভিযোগ, আমরা বুলবুলে ক্ষতিপূরণ খাতে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা চেয়ে দিল্লির কাছে আর্জি জানিয়েছি। কিন্তু দু’মাসের বেশি সময় কেটে গেলেও কেন্দ্রীয় সহায়তা মেলেনি। বিষয়টি খোদ মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার দিল্লির সর্বোচ্চ মহলে জানিয়েছেন। কিন্তু লাভ হয়নি। তাই কার্যত নিরুপায় হয়ে রাজ্য সরকার তার নিজস্ব তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা বিলি করা শুরু করেছে। তিনি বলেন, এর আগে একাধিক কেন্দ্র-রাজ্য সরকারি প্রকল্পে দিল্লির আর্থিক দায়ভার একলাফে অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিল মোদি সরকার। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর প্রশ্নে এই বৈমাতৃসুলভ আচরণ বেনজির বলেই মনে করছেন ওই আধিকারিক। যদিও এর আগে বিহার, ওড়িশা সহ আরও কয়েকটি রাজ্যে এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অতিদ্রুত আর্থিক সহায়তা দিয়েছে কেন্দ্র। যা বাংলার প্রতি কেন্দ্রের ‘দুয়োরানি’ সুলভ মনোভাবকে আরও একবার প্রকট করে তুলল বলেও মনে করেন ওই নবান্নের কর্তা।





Others News

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ


News: জাওয়াদ আসার আগেই পূর্বাভাস অনুযায়ী কলকাতায় বাড়ল দিন ও রাতের তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২৯.à§­ ডিগ্রি যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি বেশী। বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা ছিল à§§à§®.à§§ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশী। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে  হয়েছে ৯৪ শতাংশ। 

জাওয়াদের প্রভাবে শুক্রবার উপকূলের দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলের পর সমুদ্রে উঁচু ঢেউ থাকবে এবং উপকূল এলাকায় ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইবে। 

ধেয়ে আসছে ‘জাওয়াদ’। আগামী শনিবার উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি কোনও জায়গায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। তার জেরে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই যাঁরা মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে গিয়েছেন তাঁদেরও ফিরতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকদেরও ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


blanck