জামিয়ার পর শাহিন বাগে ধর্নাস্থলে গুলি চালালো আর এক রামভক্ত

1st February 2020 ভারত
জামিয়ার পর শাহিন বাগে ধর্নাস্থলে গুলি চালালো আর এক রামভক্ত


CAA বিরোধী আন্দোলনের মাঝে শাহিনবাগে চলল গুলি। শনিবার বিকেলের দিকে আচমকাই বন্দুক হাতে প্রকাশ্যে শূন্যে গুলি চালিয়ে দিল এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক। সঙ্গে স্লোগান – ‘হিন্দুস্তানে শুধু হিন্দুরাজই চলবে।’ থতমত খেয়ে যান আন্দোলনকারীরা। যদিও সঙ্গে সঙ্গেই দিল্লি পুলিশ ওই বন্দুকবাজকে ধরে ফেলে। তাকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জানতে পারে, তার নাম কপিল গুর্জর।

ঠিক দু’দিন পর আজই কেন্দ্রের তরফে শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে বৈঠকে বসার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তারপরই শাহিনবাগে শূন্যে গুলি চালাল কপিল নামে ওই ব্যক্তি। সেও কি ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্যই গুলি চালিয়েছে? নাকি হিন্দুত্ববাদী মনোভাব থেকে শাহিনবাগের আন্দোলনকে ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে সে এই কাজ করেছে, তা তদন্তসাপেক্ষ।

দু’‌দিন আগে ‌জামিয়ার পড়ুয়াদের মিছিলে। এবার গুলি চলল শাহিনবাগে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কেন্দ্রস্থল এই মুহূর্তে শাহিনবাগ। কেন্দ্রের মোদি সরকারের প্রত্যেক মন্ত্রীদের ভাষণেই বারবার উঠে আসছে শাহিনবাগের নাম। তাঁরা যে ভয় পাচ্ছেন, সেটা তাঁদের চোখে মুখে প্রকাশ পাচ্ছে। দিল্লিতে নির্বাচনী প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর এসে বলছেন, ‘‌দেশদ্রোহীদের গুলি মারুন।’‌ তিনি যে শাহিনবাগকেই উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তা বুঝতে বাকি নেই রাজনৈতিক মহলের। শনিবার বাজেট পেশের দিনই আবার হামলা হল শাহিনবাগে। দিনের আলোয় শাহিনবাগে ঢুকে গুলি ছোড়েন এক বন্দুকবাজ। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সঙ্গে সঙ্গেই আটক করা হয় ওই বন্দুকবাজকে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, কেউ আহত হননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গুলি ছোড়ার সময়ে ‘‌জয় শ্রী রাম’ স্লোগানও তুলেছে ওই বন্দুকবাজ। দুই রাউন্ড গুলি চালিয়েছে ওই বন্দুকবাজ। পিছনেই দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশ। ওর বন্দুক আটকে যাওয়ায় পালানোর চেষ্টা করে ওই ব্যক্তি। তখনই তাঁকে ধরে ফেলে পুলিশ। তাকে চিৎকার করে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‌আমাদের দেশে শুধু হিন্দুরাই টিকবে।’ ‌‌
পুলিশ আধিকারিক চিন্ময় বিশাল বলেন, শূন্যে গুলি চালায় ওই ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘‌শূন্যে গুলি চালায় ওই ব্যক্তি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধরে ফেলে পুলিশ।’‌





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck