CAA বিরোধী আন্দোলনের মাঝে শাহিনবাগে চলল গুলি। শনিবার বিকেলের দিকে আচমকাই বন্দুক হাতে প্রকাশ্যে শূন্যে গুলি চালিয়ে দিল এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক। সঙ্গে স্লোগান – ‘হিন্দুস্তানে শুধু হিন্দুরাজই চলবে।’ থতমত খেয়ে যান আন্দোলনকারীরা। যদিও সঙ্গে সঙ্গেই দিল্লি পুলিশ ওই বন্দুকবাজকে ধরে ফেলে। তাকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জানতে পারে, তার নাম কপিল গুর্জর।
ঠিক দু’দিন পর আজই কেন্দ্রের তরফে শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে বৈঠকে বসার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তারপরই শাহিনবাগে শূন্যে গুলি চালাল কপিল নামে ওই ব্যক্তি। সেও কি ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্যই গুলি চালিয়েছে? নাকি হিন্দুত্ববাদী মনোভাব থেকে শাহিনবাগের আন্দোলনকে ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে সে এই কাজ করেছে, তা তদন্তসাপেক্ষ।
দু’দিন আগে জামিয়ার পড়ুয়াদের মিছিলে। এবার গুলি চলল শাহিনবাগে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কেন্দ্রস্থল এই মুহূর্তে শাহিনবাগ। কেন্দ্রের মোদি সরকারের প্রত্যেক মন্ত্রীদের ভাষণেই বারবার উঠে আসছে শাহিনবাগের নাম। তাঁরা যে ভয় পাচ্ছেন, সেটা তাঁদের চোখে মুখে প্রকাশ পাচ্ছে। দিল্লিতে নির্বাচনী প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর এসে বলছেন, ‘দেশদ্রোহীদের গুলি মারুন।’ তিনি যে শাহিনবাগকেই উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তা বুঝতে বাকি নেই রাজনৈতিক মহলের। শনিবার বাজেট পেশের দিনই আবার হামলা হল শাহিনবাগে। দিনের আলোয় শাহিনবাগে ঢুকে গুলি ছোড়েন এক বন্দুকবাজ। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সঙ্গে সঙ্গেই আটক করা হয় ওই বন্দুকবাজকে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, কেউ আহত হননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গুলি ছোড়ার সময়ে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানও তুলেছে ওই বন্দুকবাজ। দুই রাউন্ড গুলি চালিয়েছে ওই বন্দুকবাজ। পিছনেই দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশ। ওর বন্দুক আটকে যাওয়ায় পালানোর চেষ্টা করে ওই ব্যক্তি। তখনই তাঁকে ধরে ফেলে পুলিশ। তাকে চিৎকার করে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমাদের দেশে শুধু হিন্দুরাই টিকবে।’
পুলিশ আধিকারিক চিন্ময় বিশাল বলেন, শূন্যে গুলি চালায় ওই ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘শূন্যে গুলি চালায় ওই ব্যক্তি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধরে ফেলে পুলিশ।’