এনআরসি এবং এনপিআর নিয়ে পিছু হটল কেন্দ্র

5th February 2020 ভারত
এনআরসি এবং এনপিআর নিয়ে পিছু হটল কেন্দ্র


এনআরসি-এনপিআর ইস্যুতে চাপের মুখে পিছু হটল নরেন্দ্র মোদি সরকার। আজ লোকসভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হল, অসমের পর এখনও গোটা দেশে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ (এনআরসি) চালু করা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। লক্ষণীয় বিষয় হল, এই ঘোষণা কিন্তু হল না যে, এনআরসি গোটা দেশে কখনওই হবে না। শুধু বলা হল, এখনও কোনও সিদ্ধন্ত গ্রহণ করা হয়নি। আজ লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশে এনআরসি চালু হচ্ছে কি না, এই সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেছেন, ‘এনআরসি নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি কিছু।’ যদিও এনআরসি ইস্যুতে মোদি সরকারের এই অবস্থান নতুন নয়। দেশজুড়ে এনআরসি এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আন্দোলন, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর রামলীলা ময়দানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ঠিক এই মন্তব্য করেছিলেন। প্রশ্ন তুলেছিলেন, এনআরসি নিয়ে বিরোধীরা এত বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে কেন? আমি বলছি, সরকারের মধ্যে এনআরসি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তই হয়নি।
আজ লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই ঠিক প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করেছেন। একইসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, ‘এনপিআর (ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার) নিয়েও আশঙ্কা কিংবা বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। এনপিআর চলাকালীন নথি প্রদর্শন করা আবশ্যক নয়। ধর্মীয় পরিচয় কিংবা পরিবার অথবা ব্যক্তির পরিচিতি, তাঁর ঠিকানা, জনপদের ভৌগোলিক অবস্থান শুধুমাত্র সংগ্রহ করা হবে অথবা আপডেট করা হবে। যাকে জনগণনার প্রাথমিক পর্বের পরিভাষায় বলা হচ্ছে গৃহ-নথিভুক্তিকরণ (হাউস লিস্টিং)। এমনকী কোনও ব্যক্তির পরিচিতি অথবা নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক হলেও এনপিআর প্রক্রিয়ায় কোনওরকম যাচাই পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে না। নিয়ম হল, এনপিআর প্রক্রিয়া চলার সময় দেশবাসী নিজেদের বিশ্বাস ও জ্ঞাতসারে যে তথ্য প্রদান করবেন, সেটাই বিনা শর্তে গ্রহণ করবেন সমীক্ষকরা। এমনকী আধার নথিও স্বেচ্ছায় দিতে চাইলে নেওয়া হবে, নতুবা নয়।’
বস্তুত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এভাবে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার কারণ হল, তিনটি ইস্যু নিয়েই মোদি সরকার যথেষ্ট চাপে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি এবং এনপিআর। বিজেপি বিরোধী দলগুলির শাসিত একের পর এক রাজ্য সরকার এই তিন প্রক্রিয়াকেই খারিজ করেছে। প্রস্তাব পাশ হয়েছে বিধানসভায়। এদিনই কোর কমিটির বৈঠকে কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই ইস্যুতে বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং ২০১০ সালের এনপিআর ফরম্যাটই বজায় রাখার দাবি তোলা হবে। শুধু বিজেপি বিরোধীরা নয়, সরকারের শরিক ও বন্ধু দলও জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই তিনটি প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছে না। ফলে জাতীয় রাজনীতির সমীকরণে অন্তত এই তিনটি ইস্যুতে সরকার তথা বিজেপি একঘরে। রাজনৈতিক দিক থেকে এভাবে কোণঠাসা হওয়ার পাশাপাশি পার্ক সার্কাস থেকে শাহিনবাগ চলছে বিক্ষোভ সমাবেশ। উত্তপ্ত হয়েছে সংসদও। কেন্দ্র তাই আজ ফের মরিয়া হয়ে এনআরসি এবং এনপিআর নিয়ে আশ্বাসবার্তা দিয়ে দেশবাসীকে বোঝানোর চেষ্টা করল, আশঙ্কা অমূলক।





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck