ব্যক্তিগত মত নয়, নবান্নের বয়ানই পড়লেন রাজ্যপাল

7th February 2020 পশ্চিমবঙ্গ
ব্যক্তিগত মত নয়, নবান্নের বয়ানই পড়লেন রাজ্যপাল


কলকাতা: রাজ্যপালের ভাষণের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে গেল বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। আজ দুপুরে প্রথা মেনে সরকারের বিবিধ সাফল্যের তথ্যসহ নবান্নের লিখে দেওয়া ভাষণ হুবহু গড় গড় করে পড়ে গেলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার। তারপর প্রথা ভেঙে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেম্বারে ঢুকে চা সহযোগে মিনিট ১৫ আলোচনাও সারলেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পরিষদীয়মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ রাজ্যের একাধিক আমলা।
বাজেট অধিবেশনের ভাষণের বয়ান নিয়ে নজিরবিহীনভাবে আপত্তি তুলেছিলেন রাজ্যপাল। সূচনা পর্বে প্রথা মেনে সরকারের বিবিধ সাফল্যের তথ্যসহ নবান্নের লিখে দেওয়া ভাষণ হুবহু পড়ার কথা রাজ্যপালের। কিন্তু তার আগে বৃহস্পতিবার সেই ভাষণের খসড়ার কিছু জায়গায় অদলবদল করার জন্য সরকারের কাছে লিখিতভাবেই সওয়াল করেছিলেন তিনি। তবে তাঁর সেই পরামর্শ কানে না তুলে অনড় থেকেছে নবান্ন। পাল্টা রাজ্যপাল বলেছিলেন, ‘সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য শুক্রবার আমি বিধানসভায় ভাষণ দিতে যাব। এই ভাষণ ঘিরে প্রথমবার একটি ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে। কারণ, স্বাধীনতার পর জন্ম নেওয়া প্রথম রাজ্যপাল হিসেবে আমি এই বক্তব্য রাখব। এই ভাষণের বয়ান তৈরির অধিকার সরকারের রয়েছে। সেই বয়ানে তাদের নীতি, পরিকল্পনা, সাফল্য ইত্যাদি ব্যক্ত করারও অধিকার রয়েছে সরকারের। কিন্তু রাজ্যপাল তথা সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে আমারও অধিকার রয়েছে রাজ্যকে পরামর্শ ও কিছু তথ্য দেওয়ার। অধিকার আছে আমার নিজের মত ব্যক্ত করার’। ফলে শাসক শিবির ধরেই নিয়েছিল যে রাজ্য সরকারের লিখিত বয়ানের বদলের বাইরে গিয়ে ‘অনেক কিছু’ বলবেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার। তার প্রতিবাদ করতে প্রস্তুতও ছিলেন শাসকদলের বিধায়করা।
এদিন সকাল থেকেই বিধানসভার চিত্রটা ছিল অন্যরকম। রাজ্যপালের ভাষণ সাধারণত বৈদ্যুতিন মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এদিনও তেমনই প্রস্তুতি চলছিল। তবে সকাল সাড়ে ১১টার কিছু পরে নির্দেশ আসে, ভাষণের সরাসরি সম্প্রচার হবে না। এরপর বেলার দিকে দেখা যায় তৃণমূল বিধায়করা এনআরসি, সিএএ, এনপিআর বিরোধী ব্যান্ড ও সংবিধানের প্রস্তাবনা ছাপানো অ্যাপ্রন পরে ও সংবিধানের কপি হাতে বিধানসভার কক্ষে ঢোকেন। পৌনে দু’টোর কিছু পরে বিধানসভায় পৌঁছন রাজ্যপাল। প্রথমে বি আর আম্বেদকরের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিধানসভা ভবনের দিকে এগিয়ে যান তিনি। তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে এসে তাঁকে স্বাগত জানান। ২টোর সময় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার শুরু করেন তাঁর ভাষণ। গোটা ভাষণই তিনি পড়ে যান রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া বয়ান দেখে। পরে প্রথা ভেঙে বিধানসভার অধ্যক্ষ, মুখ্যমন্ত্রী, পরিষদীয়মন্ত্রী ও রাজ্যের আমলাদের সঙ্গে আলোচনাও করেন রাজ্যপাল। বেরিয়ে আসার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে গাড়ি পর্যন্ত ছেড়ে দিয়ে যান। চলে নমস্কার-প্রতিনমস্কার পর্বও। বিরোধী বাম ও কংগ্রেসরা এনিয়ে শাসকদলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তাদের বিধায়কদের কথায়, ‘এটাই হল সেটিংয়ের আদর্শ ছবি’।





Others News

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ


News: জাওয়াদ আসার আগেই পূর্বাভাস অনুযায়ী কলকাতায় বাড়ল দিন ও রাতের তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২৯.৭ ডিগ্রি যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি বেশী। বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা ছিল ১৮.১ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশী। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে  হয়েছে ৯৪ শতাংশ। 

জাওয়াদের প্রভাবে শুক্রবার উপকূলের দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলের পর সমুদ্রে উঁচু ঢেউ থাকবে এবং উপকূল এলাকায় ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইবে। 

ধেয়ে আসছে ‘জাওয়াদ’। আগামী শনিবার উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি কোনও জায়গায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। তার জেরে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই যাঁরা মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে গিয়েছেন তাঁদেরও ফিরতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকদেরও ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


blanck