কলকাতা: পুলিসে বেশ কয়েক হাজার পদে নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে। কলকাতা ও রাজ্য পুলিস, দুই জায়গাতেই কনস্টেবল, সাব-ইন্সপেক্টর সহ বিভিন্ন পদে নিয়োগে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। এর একটা কারণও আছে। বছর দুয়েক আগে সুপ্রিম কোর্ট দেশের সব রাজ্যে পুলিসে শূন্যপদগুলি পূরণের নির্দেশ দেয়। তার জন্য সময়সীমা আপাতত বাধা হয়েছে ২০২০ সাল। সরকারি হিসেবে তখন এরাজ্যে শূন্যপদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার। কলকাতা ও রাজ্য পুলিসের রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগ হবে।
আগামী ১৬ আগস্ট রাজ্যজুড়ে প্রায় সাড়ে আট হাজার কনস্টেবল নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষা হবে। প্রাথমিক লিখিত ও তারপর শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষায় সফল হওয়া প্রার্থীরা চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষায় বসবেন। এরপর ইন্টারভিউ নিয়ে কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে।
অন্যদিকে কলকাতা পুলিসে বিভিন্ন পদে ২২৯৮ জনকে নিয়োগ করার অনুমোদন দিয়েছে নবান্ন। স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে কলকাতা পুলিসকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, পুলিসে গ্রুপ বি এবং সি-র বিভিন্ন পদে ৪৫৯৭টি-র মধ্যে ২২৯৮টি তে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হল। এর মধ্যে সাব-ইন্সপেক্টরের ১৮৫, মহিলা সাব-ইন্সপেক্টরের ২৫টি, সার্জেন্টের ১২৫টি, কনস্টেবলের ১৫০০টি, মহিলা কনস্টেবলের ২৮৫টি ও ১৭৫টি গাড়ি চালকের পদ আছে।
সাব-ইন্সপেক্টর, সার্জেন্ট পদে চাকরির আবেদন করার জন্য স্নাতক হওয়া আবশ্যক। এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে লিখিত দুশো নম্বরের অবজেকটিভ পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে সফল হওয়া প্রার্থীদের দৌড় ও শারীরিক মাপজোকের পরীক্ষা নেওয়া হয়। তাতে সফল হলে বিষয় ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষায় বসতে হয়। ওই লিখিত পরীক্ষায় চারটি একশো নম্বরের পেপার থাকে। ভাষা, গণিত, জেনারেল নলেজ ও ইন্টেলিজেন্স-এর লিখিত পরীক্ষার পর ইন্টারভিউ হয়। সেখানে ৩০ নম্বর থাকে। কনস্টেবল নিয়োগের চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষায় ৮৫ নম্বর ও ইন্টারভিউতে ১৫ নম্বর থাকে। গত কয়েক বছরে রাজ্যে সরকারি ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি নিয়োগ পুলিসে হয়েছে। তাই চাকরি প্রার্থীদের নজর পুলিসের চাকরির উপর থাকে।
রাজ্য পুলিসে সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগের পরীক্ষায় প্রায় ৭ লক্ষ প্রার্থী প্রাথমিক পরীক্ষায় বসেছিলেন। সেখান থেকে প্রায় ৩০ হাজার জনকে দৌড় ও শারীরিক মাপজোকের পরীক্ষায় ডাক হয়েছিল। ওই পরীক্ষায় সফল হন প্রায় পাঁচ হাজার প্রার্থী। ইন্টারভিউতে ডাকা হয়েছিল প্রায় তিন হাজার জনকে। তার মধ্যে থেকে নিয়োগ করা হয়েছে প্রায় দেড় হাজার জনকে। নতুন নিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টরদের প্রশিক্ষণের পর্ব চলছে।