কলকাতা: নবম শ্রেণীতে হাজিরা কম ছিল। সেই অজুহাতে এই ছাত্রীর নাম মধ্যশিক্ষা পর্ষদে পাঠায়নি স্কুল। হিসেব মতো এবার তার মাধ্যমিক দেওয়ার কথা। হুগলির বালিবেলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে এনিয়ে বিতণ্ডা হয় ছাত্রীর অভিভাবকের। শেষ পর্যন্ত সেই বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নির্দেশে জেলা স্কুল পরিদর্শক প্রধান শিক্ষককে উপর্যুপরি চিঠি দিলেও তাকে গুরুত্ব দেয়নি স্কুল। শুক্রবার এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শেখর ববি শরাফ রায় দিতে গিয়ে বলেছেন, ক্ষমতা দূষণ সৃষ্টি করে। আর অসীম ক্ষমতা পাপের জন্ম দেয়। এক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে।
মামলাকারীর আইনজীবী আদালতকে জানান, যদি হাজিরা কম থাকে, তাহলে তাকে সেই ক্লাসের বার্ষিক পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হল কেন? কীভাবেই বা সে দশম শ্রেণীতে উঠল? এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর মেলেনি। বরং প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীর অভিভাবকদের যাবতীয় অনুরোধ-উপরোধ উড়িয়ে দিয়ে তাঁদের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। এমনকী প্রথম মামলায় বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, হুগলির ডিআই প্রধান শিক্ষককে তা জানিয়ে লিখিত নির্দেশ দিলেও তাতে কর্ণপাত করেননি তিনি। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর বিচারপতি ভরদ্বাজ ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিয়েছিলেন, ছাত্রীর নাম যেন আইনমাফিক মধ্যশিক্ষা পর্ষদে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী হিসেবে পাঠানো হয়। বিচারপতি ভরদ্বাজের এজলাসে মামলাটি যখন উঠেছিল, তখনও নোটিস পাওয়া সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক আদালতে হাজির হননি। এমনকী শুক্রবার বিচারপতি শরাফের এজলাসেও তিনি গরহাজির ছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে বিচারপতির নির্দেশ, কোনও আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি ছাড়াই পর্ষদ ছাত্রীটিকে সরাসরি অ্যাডমিট কার্ড দেবে। ছাত্রী ও তার অভিভাবককে পর্ষদ অফিসে সেক্রেটারি-ইনচার্জের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়েছে। তিনি অতি দ্রুত অ্যাডমিট কার্ড দেবেন।
এদিকে, আদালত বা জেলা স্কুল পরিদর্শকের নির্দেশ পালন না করায় ডিআই ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত ওই প্রধান শিক্ষককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার জন্য ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডিআইকে সুপারিশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। ওই সুপারিশের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে পর্ষদ। অন্যদিকে, শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।