কোনও বিরোধিতাকেই দেশ বিরোধী বা গণতন্ত্র বিরোধী তকমা দেওয়া ঠিক নয় বললেন বিচারপতি

16th February 2020 ভারত
কোনও বিরোধিতাকেই দেশ বিরোধী বা গণতন্ত্র বিরোধী তকমা দেওয়া ঠিক নয় বললেন বিচারপতি


বিরোধিতা গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ। তাই যে কোনও বিরোধকেই দেশ বিরোধী বা গণতন্ত্র বিরোধী তকমা দেওয়া ঠিক নয়। কারণ সেটা সাংবিধানিক মূল্যবোধের গোড়ায় আঘাতের সামিল। এমনই মন্তব্য করলেন  à¦¸à§à¦ªà§à¦°à¦¿à¦® কোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। তিনি মনে করেন, বিরোধিতা হল গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে সংখ্যালঘুর কণ্ঠরোধ করা যায় না। বরং সব পক্ষের মধ্যে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। ভারতীয় সংবিধানের উদার প্রতিশ্রুতির মধ্যেই বহুত্ববাদকে সম্মান করার কথা বলা হয়েছে। বৈধ সরকার রাজনৈতিক বিরোধিতার ওপরে নিষেধাজ্ঞা চাপায় না। স্বাগত জানায়।’ বিচারপতির এই মন্তব্য নরেন্দ্র মোদি সরকারকে খোঁচা দিয়ে বলে অনেকে মনে করছেন।  
উল্লেখ্য, সিএএ, এনআরসি’‌র মতো বিষয়ে সরব হলেই দেশ বিরোধী তকমা দিচ্ছে বিজেপি। সেই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং বোম্বে হাইকোর্টের মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিচারপতির মতে, প্রশ্ন ও বিরোধের পথ বন্ধ করে দিলে রাজনৈতিক, আর্থিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক বৃদ্ধির পথ বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর কথায়, ‘বাক্‌–স্বাধীনতাকে রক্ষা করাই রাষ্ট্রশক্তির কাজ হওয়া উচিত। ভীতি ছড়িয়ে বাক্‌–স্বাধীনতার অধিকার হরণের চেষ্টা করা হলে রাষ্ট্রশক্তির উচিত বিরোধিতা করা।’   
কোনও সম্প্রদায়ের প্রতিবাদের অধিকার আছে কি না, তা বিচার করে দেখা আদালতের কর্তব্য। কিন্তু সেই প্রতিবাদের ফলে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হবে কি না, তা দেখা সরকারের কর্তব্য। সরকারের উচিত প্রতিবাদীদের বোঝানোর চেষ্টা করা। এই পথই দেখালেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়।





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck