ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে তাণ্ডব হিন্দুত্ববাদীদের

16th February 2020 ভারত
ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে তাণ্ডব হিন্দুত্ববাদীদের


ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র বিরোধিতা করে গতকাল দেশের বিভিন্ন শহরে তাণ্ডব চালাল বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মী-সমর্থকেরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ফুটেজে গেরুয়া পাঞ্জাবি, গলায় কমলা 

উত্তরীয় পরা যুবকদের অশান্তি ছড়াতে দেখা দিয়েছে। কোথাও মোটরবাইকে চেপে তারা যুগলদের ধাওয়া করেছে। কোথাও লাঠি উঁচিয়ে ধমক-ধামক দেওয়া হয়েছে তরুণ-তরুণীদের। কিছু জায়গায় রীতিমতো ভাঙচুরের ছবিও দেখা গিয়েছে। 

প্রেমদিবসের বিরোধিতা করে কাল নাগপুরে মিছিল করেছিল বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সমর্থকেরা। সেখানে স্লোগান ওঠে, ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে মুর্দাবাদ’। স্থানীয় সূত্রের খবর, মিছিলে লালরঙা পুতুল, সফট্‌ টয় ইত্যাদি পোড়ানো হয়। তেলঙ্গানার নেরদমেটে একই ভাবে মিছিলের পরিকল্পনা ছিল বিক্ষোভকারীরা। তবে গোলমালের আশঙ্কায় শুরুতেই সেখানে বেশ কয়েক জনকে আটক করে পুলিশ। তবে আগাম সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও হায়দরাবাদে অশান্তি আটকানো যায়নি। ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষে এ দিন লাল বেলুন, শোলা, ফাইবারের তৈরি হৃদয়াকৃতির নানা মোটিফে সাজানো হয়েছিল শহরের একটি শপিং মল। সেখানে ঢুকে ভাঙচুর চালায় হিন্দুত্ববাদীরা। ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিয়ো। এই ঘটনায় আজ পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

গুজরাতে এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মাত্রা ছিল আরও চড়া। আমদাবাদের বিভিন্ন পার্কে, নদীর ধারে যুগলদের হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শহরের পথে এ দিন ‘ভারতীয় সংস্কৃতি বাঁচাও’ মিছিল করেছিল পরিষদের কর্মীরা। মিছিলে ভ্যালেন্টাইন্স ডে উদ্‌যাপন না করার পরামর্শ দিয়ে লিফলেট বিলি করা হয়। আমদাবাদে 

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সভাপতি জে মেহতা বলেন, ‘‘আমরা প্রেমের বিরোধী নই। কিন্তু ভালবাসার নামে সমস্ত অশালীনতার বিরুদ্ধে। তা ছাড়া ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন আমাদের সংস্কৃতি নয়। এ সব পশ্চিমি উৎসব। নিজেদের সংস্কৃতিকে বাঁচাতে দেশ জুড়ে প্রতিবাদ-মিছিল করার পরিকল্পনা করেছি আমরা।’’





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck