দৌড়ে ট্রেনে উঠতে গিয়ে হাত ফসকে লাইনে, মৃত্যু ছুঁয়ে ফিরলেন যুবক

23rd February 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
দৌড়ে ট্রেনে উঠতে গিয়ে হাত ফসকে লাইনে, মৃত্যু ছুঁয়ে ফিরলেন যুবক


 à¦®à§‡à¦¦à¦¿à¦¨à§€à¦ªà§à¦°: à¦•থায় বলে রাখে হরি, মারে কে! তারই হাতে গরম প্রমাণ মিলল আরও একবার। মেদিনীপুর স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার মুখে লাফ দিয়ে আসানসোল-খড়গপুর প্যাসেঞ্জারের কামরায় উঠতে গিয়ে ছিটকে পড়েই গিয়েছিলেন সুজয়। চলন্ত ট্রেনের একের পর এক কামরার পাদানির ঘায়ে ট্রেনের ফাঁক গলে লাইনে পড়ে যাওয়ার আগের মুহূর্তে যেন দেবদূত হয়ে এলেন আরপিএফের কনস্টেবল ধর্মেন্দ্রকুমার যাদব। ভাগ্যিস পা টেনে ধরেছিলেন তিনি! তাই শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরলেন খড়গপুরের বাসিন্দা সুজয় ঘোষ। স্টেশনেই প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভরতি করা হয়। আঘাত লাগলেও আপাতত তিনি বিপন্মুক্ত বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।

পেশায় দোকানকর্মী সুজয় ঘোষের বাড়ি খড়গপুরের বারবেটিয়াতে। মেদিনীপুর শহরের স্টেশন রোডের উপরই একটি ওষুধ দোকানে কাজ করেন তিনি। প্রতিদিনই রাতে ট্রেন ধরে বাড়ি ফেরেন। শুক্রবার রাত ৯টা ৩৫ মিনিট নাগাদ আসানসোল-খড়্গপুর প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি মেদিনীপুর স্টেশনে এসে দাঁড়ায়। পাঁচ মিনিট পর ট্রেনটি ছেড়ে দেওয়ার মুখেই দৌড়ে এসে চলন্ত ট্রেনে উঠতে যান সুজয়বাবু। তাড়াহুড়ো করে উঠতে গিয়ে হাত ফসকে প্লাটফর্মের উপরই পড়ে যান তিনি। গড়াতে গড়াতেই একাধিকবার ট্রেনের কামরার পাদানিতে ধাক্কা লাগে তাঁর। মাথাও ফেটে যায়। ওই অবস্থা দেখে তাঁকে বাঁচাতে ছুটে যান কনস্টেবল ধর্মেন্দ্রকুমার যাদব। সুজয়বাবু ট্রেনের ফাঁক গলে রেলের চাকার তলায় চলে যাওয়ার মুখেই তাঁকে উদ্ধার করেন ওই কনস্টেবল । গোটা ঘটনাটি প্লাটফর্মের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে যায়।

এই ঘটনায় ধর্মেন্দ্র যাদব ও তাঁর পরিবারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সুজয় ঘোষ। তাঁর কথায়, “খুব শিক্ষা হল। তাড়াহুড়ো করে ট্রেন ধরার চেষ্টা আর কখনও করব না।” ওই দুর্ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ায় অভিনন্দনের বন্যায় ভেসে গিয়েছেন রেল পুলিশের ওই কনস্টেবল। মেদিনীপুর স্টেশনের আরপিএফের ওসি বিজেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, “কনস্টেবল ধর্মেন্দ্র যাদবের তৎপরতায় সাক্ষাৎ মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে এসেছেন ওই যাত্রী। ওই যাত্রীকে আগেই চলন্ত ট্রেনে উঠতে বারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা শোনেননি।” স্টেশনে লাইন পারাপার থেকে শুরু করে চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা-সহ বিভিন্ন বিষয়ে মাইকে ঘোষণা করা হয়। সব যাত্রীকেই সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। à§©à§® বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck